এই ঘটনায় রীতিমতো লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রাক্তন ছাত্র সৌমিক দত্ত বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষক সমাজের মেরুদণ্ড। সেই শিক্ষকেরাই যদি একজন স্কুল পরিদর্শকের গায়ে হাত তোলেন, তা সমাজের পক্ষে ভয়ানক বার্তা।"

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 14:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর সময়ে চরম বিশৃঙ্খলা। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে (Madhyamik Exam Centre , West Bengal) মোবাইল ফোন (Mobile Phone) বেজে ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই স্কুল পরিদর্শককে (School Inspector) মারধরের অভিযোগ। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের আঝাপুর হাইস্কুলে। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও গ্রুপ ডি কর্মী-সহ সাত শিক্ষককে সাসপেন্ড করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। একই সঙ্গে, ওই স্কুলে বাকি পরীক্ষাগুলি কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়েও জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখছে পর্ষদ।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বিধি অনুযায়ী, মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে শুধুমাত্র সেন্টার সচিব, ভেন্যু সুপারভাইজার ও নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু মঙ্গলবার ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে একটি মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। বিষয়টি নজরে আসতেই সেখানে উপস্থিত পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রশান্ত কবিরাজ প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে মোবাইল ফোন পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকল?
অভিযোগ, সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সাত-আটজন শিক্ষক একযোগে তাঁর উপর চড়াও হন। বেধড়ক মারধরের জেরে আহত হন স্কুল পরিদর্শক। তাঁকে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ওই স্কুলে পৌঁছয় মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা মনিটরিং কমিটি। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিতর্কিত মোবাইল ফোনটি।
পর্ষদের নিযুক্ত জেলা আহ্বায়ক অমিত কুমার ঘোষ জানান, “ভেন্যু সুপারভাইজার ও ইনচার্জের রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পর্ষদে জমা দেওয়া হয়েছে।” জেলা স্কুল পরিদর্শক দেবব্রত পাল বলেন, “স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এক জন ক্লার্ক-সহ মোট আট জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।”
এই ঘটনায় রীতিমতো লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রাক্তন ছাত্র সৌমিক দত্ত বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষক সমাজের মেরুদণ্ড। সেই শিক্ষকেরাই যদি একজন স্কুল পরিদর্শকের গায়ে হাত তোলেন, তা সমাজের পক্ষে ভয়ানক বার্তা। এমনকী ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। মাধ্যমিকের সময় কড়া নিরাপত্তায় বাইরের কেউ ঢুকতে পারে না। ফলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”
আঝাপুর গ্রামের বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র ঘোষের কথায়, “বাইরের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পরীক্ষা দিতে এসেছে। তাঁদের মানসিক অবস্থার কথা একবারও ভাবা হয়নি। মাধ্যমিকের সময় শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত সঠিক।”
মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মাঝে এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে অভিভাবক মহলে। এখন নজর—পর্ষদের কড়া নজরদারিতে আঝাপুর হাইস্কুলে বাকি পরীক্ষাগুলি নির্বিঘ্নে নেওয়া যায় কি না।