দেউচা‑পাঁচামি কয়লা ব্লকটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা সংরক্ষণ কেন্দ্র। প্রায় ২১০০ কোটি টন কয়লার সম্ভার রয়েছে এখানে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 July 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেউচা‑পাঁচামি (Deocha Pachami) কয়লাখনি প্রকল্পে (CoalMining) এবার এক নতুন দিগন্তের সূচনা। ভূগর্ভস্থ কয়লা উত্তোলনের (UndergroundMining) জন্য মোট ৬টি সংস্থাকে বেছে নিল পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (WBPDCL)। নির্বাচিত সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ কয়লা উত্তোলক সংস্থা—পোল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত জেএসডব্লিউ এসএ (JSW SA)।
রাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই ছ’টি সংস্থা প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। বিদেশি সংস্থা ছাড়াও তালিকায় রয়েছে দেশের পাঁচটি খ্যাতনামা খনন সংস্থা—জেএমএস মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড, গেইনওয়েল কমোসেলস প্রাইভেট লিমিটেড, মিনোপ ইনোভেটিভ টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেড, মিনসোল লিমিটেড এবং মাহেশ্বরী মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড।
উল্লেখ্য, দেউচা‑পাঁচামি কয়লা ব্লকটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা সংরক্ষণ কেন্দ্র। প্রায় ২১০০ কোটি টন কয়লার সম্ভার রয়েছে এখানে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মিটার গভীর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা শক্ত বেসাল্ট পাথরের স্তর ভেদ করে ভূগর্ভস্থ খননের কাজ চালাতে হবে। এর ফলে খরচ ও প্রযুক্তিগত জটিলতা অনেকটাই বেশি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই কারণেই নিগমের তরফে বেছে নেওয়া হয়েছে বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ রক মেকানিক্সকে, যারা ইতিমধ্যেই প্রকল্পের ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা চালিয়ে জানিয়েছে, প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে খনন সম্ভব। বাকি অংশে কয়লা গ্যাসভিত্তিক শক্তি উৎপাদনের কথা ভাবা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ১২ একর জমিতে পরীক্ষামূলক খননের কাজ শুরু হয়েছে। সাফল্যও মিলেছে বলে জানাচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম। পরবর্তী ধাপে খনির কাজ ছড়িয়ে দেওয়া হবে ৩০০ একরেরও বেশি অঞ্চলে। কয়লা উত্তোলনের পাশাপাশি রাজ্য সরকার এখানে শিল্প, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
তবে এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতাও জারি। বামফ্রন্ট অভিযোগ তুলেছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই। এই মর্মে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। পাল্ট রাজ্যের দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই করা হয়েছে নির্বাচন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দেউচা‑পাঁচামি প্রকল্প সফল হলে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু রাজ্যের নয়, দেশের শক্তি চাহিদার বড় অংশ জোগানো সম্ভব হবে এখান থেকে। কর্মসংস্থান, রাজস্ব এবং শিল্পায়নের দিক থেকেও এই প্রকল্প হতে পারে এক ‘গেম চেঞ্জার’।