২০১৫ সালের টেট এবং পরে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রার্থী দাবি করেন, তাঁরা টেট উত্তীর্ণ হয়েও ইন্টারভিউয়ের পরে চাকরি পাননি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি (Primary TET Corruption) মামলায় প্রায় দু’বছরের টানাপড়েনের পর বড় স্বস্তি পেলেন ৩২ হাজার শিক্ষক ((Cancellation of 32,000 Primary School Jobs))। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে - সব ৩২ হাজার নিয়োগই বহাল থাকবে।
২০১৫ সালের টেট (2015 TET) এবং পরে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রার্থী দাবি করেন, তাঁরা টেট উত্তীর্ণ হয়েও ইন্টারভিউয়ের (Interview) পরে চাকরি পাননি। অভিযোগ ওঠে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ‘অ্যাপটিটিউড টেস্ট’ হয়নি, অথচ নম্বর বসিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়েই মামলা পৌঁছয় হাইকোর্টে, তদন্তের দায়িত্ব পায় সিবিআই ও ইডি।
এই মামলার শুনানির সময় তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhayay) বহু আবেদনকারীর গোপন জবানবন্দি নথিবদ্ধ করেন। তদন্ত সংস্থার মতামত শোনেন। তারপরই ২০২৩ সালের মে মাসে এক নির্দেশে প্রায় ৩৬ হাজার চাকরি বাতিল ঘোষণা করেন। তাঁর নির্দেশ ছিল, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
কিন্তু পরে মামলাকারীদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, ৩৬ হাজার নয় - প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ৩০ হাজার ১৮৫। টাইপোগ্রাফিকাল ভুলেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এর পরেই কার্যত ৩২ হাজার চাকরি বাতিল হয়।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় পর্ষদ ও রাজ্য সরকার। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সেই চাকরি-বাতিলের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় ২০২৩ সালেই।
পরবর্তীতে বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখে মামলাটি ফের পাঠিয়ে দেয় কলকাতা হাইকোর্টে। নতুন করে শুনানি শুরু হয় বিচারপতি চক্রবর্তী ও বিচারপতি মিত্রের বেঞ্চে।
এই বছরের ১২ নভেম্বর শুনানি শেষ হওয়ার পরে প্রায় তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় সকলকে। অবশেষে বুধবারের রায় জানিয়ে দিল - প্রাথমিকের ৩২ হাজার নিয়োগ বৈধ। ফলে প্রায় দু’বছরের অনিশ্চয়তার পরে চরম স্বস্তিতে শিক্ষকরা।