অভিযোগ উঠেছে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও শ্রীরামপুর পুরসভা কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টে নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার সন্তোষ চৌধুরী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 9 January 2026 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় (Kolkata) একের পর এক বেআইনি নির্মাণকে (Illegal Construction) ঘিরে বাড়িতে ফাটল, হেলে পড়া দেওয়াল - এই আতঙ্ক নতুন নয়। তবে এবার সেই উদ্বেগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল হুগলির শ্রীরামপুরে (Hooghly Serampore)। বেআইনি নির্মাণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ (Compensation) দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
শ্রীরামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এস সি ঘোষ লেনে একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হতেই আশপাশের একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দিতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী প্রোমোটারের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি। কিন্তু নির্মাণস্থলের ঠিক পাশেই দেবপ্রসাদ বসাকের বাড়ি। তাঁর দাবি, নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই বাড়ির বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষতি শুরু হয়।
একাধিকবার পুরসভায় (Municipal Corporation) অভিযোগ জানানো হলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দেবপ্রসাদ। প্রথমে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। পরে সেই নির্দেশ বহাল রাখেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র।
অভিযোগ উঠেছে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও শ্রীরামপুর পুরসভা কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টে নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার সন্তোষ চৌধুরী সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর বিষয়টি গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে তথ্য গোপনের অভিযোগে নির্মাণকারী সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে মামলাটি খারিজ করে দেয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চ।
এরপর আবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসে রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় নির্মাণকারী সংস্থা। যুক্তি ছিল, রাজ্য সরকারের নতুন আইনে বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের বিধান রয়েছে। তবে সেই যুক্তি মান্যতা পায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে সাফ জানান, অবৈধ নির্মাণের ফলেই বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে আবেদনকারীর। তাঁর দাবি ছিল, শুধু নির্মাণ ভাঙা নয়, ক্ষতির ন্যায্য আর্থিক প্রতিকারও প্রয়োজন।
সেই প্রেক্ষিতেই বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র শ্রীরামপুর পুরসভাকে নির্দেশ দেন, কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই সমীক্ষা রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই হাইকোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয়, নির্মাণকারী সংস্থার ক্ষেত্রে রাজ্যের নতুন আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখে শ্রীরামপুর পুরসভাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।