ইমেইলের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির (Kolkata High Court) কাছে মেইল পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অনুরোধ জানিয়েছে, অন্তত অন্য কোনও বিচাপতির এজলাসে যদি মামলার শুনানি শুরু করা যায়।

কলকাতা হাইকোর্ট ও ইডি
শেষ আপডেট: 9 January 2026 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাক মামলার (I-PAC ED Raid) শুনানি আজই করার আর্জি জানাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সরাসরি ইমেইলের মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির (Kolkata High Court) কাছে মেইল পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অনুরোধ জানিয়েছে, অন্তত অন্য কোনও বিচাপতির এজলাসে যদি মামলার শুনানি শুরু করা যায়।
যদিও হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা মুলতুবি রেখেছেন, তাই অন্য এজলাসে শুনানি সরানো যাবে না। কাজেই মামলা উঠবে ১৪ তারিখই।
আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আদালতের দ্বারস্থ হয়। ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। এর পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই দুই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
তবে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিট নাগাদ পরিস্থিতির বদল হয়। এজলাসে বারবার সতর্ক করার পরও হইহট্টোগোল বন্ধ না হওয়ায় এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ভিড় না কমায় বিচারপতি লিখিত নির্দেশে জানিয়ে দেন, ওই দিনের মতো মামলার শুনানি স্থগিত রাখা হচ্ছে। ফলে শুক্রবার কোনও শুনানি হয়নি। আদালত জানায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। এ দিন এই মামলার জন্য কোনও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থাও ছিল না।
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হঠাৎই তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একই সময়ে আর একটি ইডি দল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের দফতরেও পৌঁছে যায়। বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয় বলে জানা যায়।
বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যান, তার পরে সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরেও প্রবেশ করেন। অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই তিনি ভিতর থেকে একাধিক ফাইল, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ল্যাপটপ বাইরে বের করে আনেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা তৃণমূলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই বৃহস্পতিবার লাউডন স্ট্রিট ও আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযানের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল মুখ্যমন্ত্রীর করা নতুন অভিযোগ। অন্য দিকে, এই পুরো ঘটনা নিয়ে ইডির তরফে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকেও পক্ষভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসও আলাদা মামলা করেছে, যাতে আইপ্যাক ও ইডিকে যুক্ত করা হয়েছে।