বৃহস্পতিবার সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় একযোগে অভিযান চালায় ইডি। একটি দল যায় সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে, অন্য দলটি পৌঁছয় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 January 2026 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাকের দফতরে (Ipac Kolkata) তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ফের কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আদালত মামলার অনুমতি দিয়েছে এবং শুক্রবারই দুপুর আড়াইটেয় শুনানি হওয়ার কথা।
একই বেঞ্চে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দায়ের করা পাল্টা মামলাটিও উঠছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, ইডি ও তৃণমূলের জোড়া মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে।
ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, তাঁদের করা মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) যুক্ত করা হচ্ছে। কারণ, ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং সেই সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে বেআইনি কয়লা পাচার (Coal Smuggle Case) সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় একযোগে অভিযান চালায় ইডি (ED Raid)। একটি দল যায় সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে (IPac Office Kolkata), অন্য দলটি পৌঁছয় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়িতে। আইপ্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা হওয়ায় এই অভিযান ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিতর্কের আগুনে আরও ঘি পড়ে যখন ইডি তল্লাশির খবর পেয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নথি, ফাইল এবং ল্যাপটপ সরিয়ে নিয়ে গেছেন। পরে সল্টলেকের অফিসেও একই ঘটনা ঘটে বলে দাবি।
মুখ্যমন্ত্রী যদিও এই অভিযানের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল হরণ করতেই এই অভিযান। দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকার তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। অভিযোগ করেন, তাঁর নির্দেশেই এমন কাজ করেছে ইডি।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইডি আদালতে জানায়, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggle Case) সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে নথি ছিনতাই করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এদিকে শুক্রবারই আইপ্যাকের দফতরে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। ছিলেন ডেরেক ও' ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়রা। সেই সময়ই তাঁদের দিল্লি পুলিশ হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। বাসে তুলে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। সেখানে কিছু নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ মিটলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।