মঙ্গলবার সকালে সবথেকে বেশি চাঞ্চল্য ছড়ায় কলকাতার নগর দায়রা আদালত বা সিটি সিভিল কোর্টে। আদালত সূত্রে খবর, খোদ প্রধান বিচারকের ফোনে একটি ইমেইল পাঠিয়ে দাবি করা হয় যে, আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 24 February 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বা দু'-জায়গায় নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা আদালতে (Bomb Mail in Court) একযোগে বোমাতঙ্কের (Bomb Threat) মেইল ঘিরে মঙ্গলবার দিনভর চরম নাটকীয়তা তৈরি হল। ভুয়ো হুমকিতে বিঘ্নিত হল বিচারপ্রক্রিয়া, আদালত চত্বর থেকে আতঙ্কিত বিচারপ্রার্থীদের সরানোর হুড়োহুড়িতে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। তবে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। মঙ্গলবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty) বলেন, “কলকাতা (Kolkata), কৃষ্ণনগর, বহরমপুর-সহ বিভিন্ন আদালতে বোমাতঙ্কের খবর মিলেছে। এতে সাধারণ মানুষ ও বিচারকরা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। আমরা সব পক্ষকে আশ্বস্ত করছি, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।”
সিটি সিভিল কোর্টে চিরুনি তল্লাশি
মঙ্গলবার সকালে সবথেকে বেশি চাঞ্চল্য ছড়ায় কলকাতার নগর দায়রা আদালত বা সিটি সিভিল কোর্টে। আদালত সূত্রে খবর, খোদ প্রধান বিচারকের ফোনে একটি ইমেইল পাঠিয়ে দাবি করা হয় যে, আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে খবর পৌঁছায় লালবাজারে। তড়িঘড়ি বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা বিল্ডিং খালি করে দিয়ে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। যদিও দীর্ঘ তল্লাশির পর সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।
পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারি
এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে জানান, প্রশাসন সব রকম পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। একই সুরে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বলেন, “শহরের ব্যাঙ্কশাল এবং সিটি সিভিল কোর্টে দুটি হুমকি মেইল এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গে বম্ব স্কোয়াড তল্লাশি চালায়। মেইল দুটি ভুয়ো ছিল। তবে কে বা কারা এই ইমেইল পাঠিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সকাল থেকেই আদালতের গেটে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু বিচারপ্রার্থী। কিন্তু পুলিশের কড়া ঘেরাটোপ ও তল্লাশির জেরে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এজলাস থেকে আইনজীবীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ‘সাইবার হুমকি’র নেপথ্যে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।