ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পৌঁছে বিস্ফোরকটি উদ্ধার করে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সরশুনা থানার পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 February 2026 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আবহে খাস কলকাতায় পরপর বিস্ফোরক ও গুলিচালনার (Kolkata Gunshot Incident) ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার রাতে বেহালার সরশুনা (Behala Sarsuna) থানার অন্তর্গত ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার মাঝখানে পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি বোমা। দীর্ঘক্ষণ সেটি সেখানেই পড়ে থাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।
স্থানীয়দের দাবি, মানিক ও গিরি নামে দুই ব্যক্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত। অভিযোগ, অশান্তি ছড়াতেই ওই বোমা ফেলা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার এলাকায় বোমা পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে বাসিন্দাদের বক্তব্য।
ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পৌঁছে বিস্ফোরকটি উদ্ধার করে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সরশুনা থানার পুলিশ।
এদিনই শহরের অন্য প্রান্তে ফের গুলিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তিলজলা এলাকায় এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে এলাকার দুষ্কৃতী মহম্মদ সলমনের নাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ১৯ বছরের মহম্মদ নিয়াজের সঙ্গে বচসায় জড়ায় সলমন। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, গভীর রাতে নিয়াজকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় সলমনের সঙ্গীরা। কিছুদূর এগোতেই তাকে লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছ’ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। নিয়াজের পায়ে তিনটি গুলি লাগে।
তড়িঘড়ি তাকে এসএসকেএম-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানকার ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসাধীন সে।
আহত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, সলমন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তোলাবাজি, চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত। কী কারণে দু’জনের মধ্যে বিবাদ বাঁধে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে টাকার দাবিকে কেন্দ্র করেই এই হামলা হতে পারে বলে তাঁদের অনুমান। পরিবারের তরফে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডেও গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও পলাতক। এলাকা দখল, বস্তি দখল ও বেআইনি নির্মাণ-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একটি সরাসরি সম্প্রচারও করেছিল সে। কিন্তু এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
শহরে পরপর এই ধরনের ঘটনায় ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।