আদালত চত্বরজুড়ে তল্লাশি চলছে। পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে।

আদালত চত্বরে বোমাতঙ্ক
শেষ আপডেট: 24 February 2026 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা থেকে চুঁচুড়া, পশ্চিম বর্ধমান থেকে মুর্শিদাবাদ- রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা গেল ব্যাপক উত্তেজনা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটবে বলে উড়ো মেলে হুমকি দেওয়া হয় একাধিক বিচারককে (bomb threat in bengal courts)। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়, আদালত চত্বরে চলে স্নিফার ডগ, মেটাল ডিটেক্টর ও বিশেষ টিমের তল্লাশি। আতঙ্কে বহু আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ আদালত থেকে বেরিয়ে আসেন (west bengal court bomb scare)। যদিও কোথাও বোমা বা সন্দেহজনক কোনও বস্তু পাওয়া যায়নি।
একাধিক আদালতে একই ধরনের হুমকি-মেল
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুখ্য বিচারকের কাছে প্রথম একটি মেল আসে। তাতে দাবি করা হয়, আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে এবং দুপুর ১টায় বিস্ফোরণ ঘটবে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আদালত চত্বরে পৌঁছে যায় বম্ব স্কোয়াড। পুলিশের স্নিফার ডগ তল্লাশি শুরু করে (threat email investigation)।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতা নগর দায়রা আদালতেও একই ধরনের হুমকি-মেল আসে। আতঙ্কে আদালত চত্বর ফাঁকা হতে শুরু করে। দুর্গাপুর আদালতেও (Durgapur Court Threat Mail) পাওয়া যায় হুবহু একই বার্তা।
চুঁচুড়া আদালতে আরডিএক্স বিস্ফোরণের হুমকি!
হুগলির চুঁচুড়ায় জেলা জজের মেলবক্সেও পৌঁছায় ভয়ঙ্কর হুমকি, কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরডিএক্স বিস্ফোরণ ঘটবে! খবর পেয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট।
আদালতের প্রতিটি গেট ও চত্বর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হয়। বিশেষ ব্রাঞ্চও নজরদারি বাড়ায়। এখানেও কোনও বোমা বা বিপজ্জনক বস্তু মেলেনি।
পুলিশ-প্রশাসনের আশ্বাস
পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ায় দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (CS Nandini Chakravorty)। তিনি আশ্বস্ত করেন, “বিচারকদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে। তাঁরা যাতে এসআইআরের কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হবে।” কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার (Kolkata CP Supratim Sarkar) জানান, সাইবার সেল ইতিমধ্যেই ট্র্যাক করছে, কোথা থেকে এই মেল পাঠানো হয়েছিল।
এসআইআর-কে ঘিরে সন্দেহ
চুঁচুড়া আদালতের (chuchura court threat mail) একাধিক আইনজীবীর মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের কাজে বিচারকদের অধিকাংশ এখন ব্যস্ত। এই প্রক্রিয়ায় যাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের কেউ এমন আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে।
নিরাপত্তা বজায় রেখে তদন্ত চলছে
পুলিশের ধারণা, বোমা রাখার মতো কোনও বাস্তব পরিকল্পনা নয়, উদ্দেশ্য শুধুই আতঙ্ক সৃষ্টি করা। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। সব আদালতে সম্পূর্ণ তল্লাশি করা হয়েছে। এখন সাইবার সেলের লক্ষ্য, হুমকি-মেলের উৎস ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করা।