কয়েকদিন ধরেই স্কুলের পাশাপাশি তালিকা সংশোধনের কাজ করছিলেন জাকির। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি (BLO death in Murshidabad)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 November 2025 10:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR)-এর প্রচণ্ড চাপের মাঝেই অকস্মাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন আরও এক বিএলও (BLO death)। মুর্শিদাবাদের (BLO death in Murshidabad) খড়গ্রামে দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও ব্লক লেভেল অফিসার জাকির হোসেনের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত কাজের চাপই (SIR workload pressure) কি কাড়ল আর এক শিক্ষকের প্রাণ?
পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি তালিকা সংশোধনের কাজ করছিলেন জাকির। সকাল-সন্ধ্যা নিরন্তর দৌড়ঝাঁপে মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো গেল না তাঁকে। চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
SIR নিয়ে BLO-দের জেরবার হওয়ার কোনও না কোনও ছবি সামনে আসছে প্রতিদিন। সামনে আসছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। গোটা রাজ্যজুড়ে জুড়ে চলছে হরেক বিতর্ক। এসবকে পাশ কাটিয়েই মনের জোরে ৮০ শতাংশ কাজ সেরে ফেললেন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম চোপড়ার লালুগছের BLO প্রাণগোপাল দাস।
ডাক্তাররা তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও বৃহত্তর স্বার্থে সেই পরামর্শ না শুনেই বাড়ি চলে আসেন তিনি। তারপরেই শুরু হয় লড়াই। নির্ধারিত সময়ে যে শেষ করতে হবে SIR এর কাজ।
রাজ্যে এসআইআর চলাকালীন বিএলওদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। সম্প্রতি নামখানার দেবাশিস দাস ও কোন্নগরের এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও-র মৃত্যু হয়েছিল, মালবাজার ও নদিয়ায় আত্মঘাতী হয়েছেন দুই বিএলও। পরিবারগুলির দাবি, অস্বাভাবিক কাজের চাপই তাঁদের মৃত্যুর কারণ।
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবু একের পর এক মৃত্যু, প্রশ্ন ক্রমশই তীব্র হচ্ছে।