গোটা রাজ্যজুড়ে জুড়ে চলছে হরেক বিতর্ক। এসবকে পাশ কাটিয়েই মনের জোরে ৮০ শতাংশ কাজ সেরে ফেললেন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম চোপড়ার লালুগছের BLO প্রাণগোপাল দাস।

শেষ আপডেট: 27 November 2025 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: SIR নিয়ে (SIR in West Bengal) BLO-দের জেরবার হওয়ার কোনও না কোনও ছবি সামনে আসছে প্রতিদিন। সামনে আসছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। গোটা রাজ্যজুড়ে জুড়ে চলছে হরেক বিতর্ক। এসবকে পাশ কাটিয়েই মনের জোরে ৮০ শতাংশ কাজ সেরে ফেললেন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম চোপড়ার লালুগছের BLO প্রাণগোপাল দাস।
লালুগছ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি। সপ্তাহখানেক আগের ঘটনা। ২৫ তারিখের মধ্যে ৮০ শতাংশ ফর্ম ফিলআপের (SIR Form-Fill-up) নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার তীব্র চাপ ছিল। সার্ভার বারবার সমস্যায় ফেলছিল। বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানান। পরে পঞ্চায়েত দফতরে গিয়ে ওয়াই-ফাইয়ের (Wifi) মাধ্যমে আপলোডের কাজ চালিয়ে যান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলে ওইদুনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সোনাপুর ব্রিজের কাছে একটি লরি ধাক্কা মেরে চলে যায়।
দীর্ঘক্ষণ অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন রাস্তায়। পরে স্থানীয়দের নজরে আসায় তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। সেখানেই জানা যায়—তার পায়ের দু’টি আঙুল ভেঙে গেছে। হাতে ও কাঁধে রয়েছে গুরুতর চোট। ডাক্তাররা তাঁকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও বৃহত্তর স্বার্থে সেই পরামর্শ না শুনেই বাড়ি চলে আসেন তিনি। তারপরেই শুরু হয় লড়াই। নির্ধারিত সময়ে যে শেষ করতে হবে SIR এর কাজ।
প্রাণগোপালবাবু বলেন, "প্রচণ্ড যন্ত্রণা রয়েছে শরীরে। তবুও কিছু করার নেই। সচিত্র পরিচয়পত্রে নাগরিকদের নাম তোলার জন্য এটুকুতো আমাকে করতেই হবে। সিংহভাগ ফর্ম চলে এসেছে। সকাল থেকে বিছানায় বসেই কাজ করছি। মাঝেমধ্যে লোকজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাইরে গিয়েও বসতে হচ্ছে।"
তাঁকে সহায়তা করার জন্য তিনি ডেকে এনেছেন শ্যালক বিশ্বদেব বিশ্বাসকে। বিশ্বদেব জানান, জামাইবাবু নড়াচড়া করতে পারছেন না। ধরাধরি করে তাকে বসাতে বা ওঠাতে হচ্ছে। তবুও হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাগরিকদের ফর্ম জমা নিচ্ছেন। করছেন এন্ট্রি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই লড়াকু মানসিকতাকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই। নিজের ফর্ম জমা দিতে এসে নিতাইচরণ দাস বলেন, “ওনার দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। যে অবস্থায়ও কাজ করছেন, তা অবিশ্বাস্য। এমন মনোবল দেখে মাথা নত হয়ে যায়।”