আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের ইনসেনটিভ মিলিয়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

আশা কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 21 January 2026 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিক দাবিতে বুধবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচি রয়েছে আশা কর্মীদের (Asha Worrkers)। মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি আলোচনার জন্য তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছিল, তারপরও কেন যেতে এইভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছেন আশা কর্মীরা (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan)। মালদহ, বেলদা-সহ একাধিক স্টেশনের ছবিটা প্রায় একই। অনেককেই ট্রেনে উঠতে বাধা দেয় রাজ্য পুলিশ, এমনকি যাঁরা ট্রেনে উঠতে পেরেছিলেন তাঁদের শিয়ালদহ পৌঁছালে স্টেশনেই আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত সপ্তাহেই বেতনবৃদ্ধি-সহ মোট আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেন আশা কর্মীরা (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan)। দুপুরের ব্যস্ত সময় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। একাধিক দায়িত্ব কাঁধে অথচ মাসিক আয় অত্যন্ত কম, এই অভিযোগই মূলত আন্দোলনের কেন্দ্রে। আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের ইনসেনটিভ মিলিয়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সেই কারণেই ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance), মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) এবং মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ (Death Compensation) চালুর দাবিও রয়েছে আন্দোলনকারীদের।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, সরকার একদিকে তাঁদের ব্রেস্ট ফিডিং (Breast Feeding) নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিতে বলে, অথচ নিজেরাই মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। এমনকী কর্মরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে পরিবার কোনও আর্থিক সহায়তাও পায় না।
অন্যদিকে, আশা কর্মীদের অভিযানে অশান্তির আশঙ্কায় নিরাপত্তার বেড়েছে স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে। গতকাল রাতেই ব্যারিকেড বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ বাহিনী। তবে এদিন সকালে আশা কর্মীরা বিভিন্ন জেলা থেকে যখন কলকাতা এসে পৌঁছন, তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ জিআরপি-র বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে স্টেশনের ভিতরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। আশা কর্মীদের দাবি, 'লড়ব, মরব। কিন্তু যাবই।'
স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে যাওয়ার পথে হিঙ্গলগঞ্জের এক স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এর জেরে আশাকর্মীরা হিঙ্গলগঞ্জ থানার সামনে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। আজ আশা কর্মীদের কর্মসূচি অনুযায়ী একটি দল স্বাস্থ্য ভবনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সেই দলের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ চৈতালি সর্দারকে মাঝপথে পুলিশ থামিয়ে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদেই অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা একজোট হয়ে থানার গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, কোনও কারণ না দেখিয়েই আটক করা হয়েছে। দ্রুত চৈতালি সর্দারের মুক্তি এবং ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা চেয়ে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।