লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বড় নির্দেশ দিয়েছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, এর তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং নথি জমায় রসিদও দিতে হবে কমিশনকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে। কিন্তু অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, এই লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি নিয়ে বিজেপি শিবিরের কোনও হেলদোল নেই।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 January 2026 20:18
মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে লজিক্যাল-বৈঠক (Nabanna Meeting About SIR) ডেকেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty) রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DMs) ডেকেছিলেন বৈঠকে, সেখানেই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি আসার আগেই সমস্ত জেলাশাসকদের মোবাইল ফোন বাইরে জমা রাখতে বলা হয়। যার অর্থ হয়তো - ভিতরের কোনও কথা যাতে বাইরে না যায়।
তাহলে ভিতরে কী কথা হল
বাংলা গানেই রয়েছে, 'গোপন কথাটি রবে না গোপনে'। এবারও গোপনে থাকেনি। সূত্রের খবর, নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের বলেছেন, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির (Logical Discrepancies) নামে একজনের নামও যাতে বাদ না যায়। সূত্রের আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছেন - জানি আপনারা চাপে রয়েছেন তবে ভয় নেই, আমি আগের মতো আপনাদের পাশে আছি, থাকব। শুধু দেখবেন, কারও নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।
লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি (Logical Discrepancies) নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বড় নির্দেশ দিয়েছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, এর তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং নথি জমায় রসিদও দিতে হবে কমিশনকে (ECI)। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে। কিন্তু অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, এই লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি (Logical Discrepancies) নিয়ে বিজেপি শিবিরের কোনও হেলদোল নেই।
এর কারণ কী
তৃণমূল মনে করছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির (Logical Discrepancies) তালিকা যদি বেরোয় তাহলে প্রত্যেককে ধরে ধরে ক্যাম্পের মাধ্যমে সাহায্য করা যাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে। এদিকে, বিজেপির ধারণা, অধিকাংশ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির (Logical Discrepancies) খবর আসছে সংখ্যালঘু এলাকা থেকে। আর সেখানে লজিক্যালি সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই তৃণমূল যাই করুক, বহু লক্ষ নাম বাদ যাবে। তেমনটা হলেই অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সেই ঘোলাজলে তারা মাছ ধরে নেবে।
ঠিক এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার রাজ্যের সব জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মনে করা হচ্ছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকা প্রকাশের আগে এটি প্রস্তুতি বৈঠক। জেলাশাসকদের যে বার্তা দেওয়া হল তা তাঁরা জেলায় ফিরে গিয়ে মহকুমা শাসক, বিডিও সহ সকলকে জানাবেন। পরে শাসক দল হয়তো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্যাম্প করে করে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবে। তবে কাদের সমস্যা রয়েছে, কতজনের নাম বাদ যাবে সেই পুরো ব্যাপারটাই এখন ধোঁয়াশার মধ্যে।
মোবাইল জমা রেখে বৈঠক
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আকছার দাবি করেন, নবান্নের বৈঠকে যা আলোচনা হয় তা তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই জানতে পেরে যান। নবান্নেও এই লক্ষ্মীন্দরের ঘরের ফুটো নিয়ে নানারকম জল্পনা রয়েছে। কে খবর দেয়, তা স্পষ্ট নয়। তাই ডিএম-দের ফোন বাইরে রেখে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই এর সঙ্গে জুড়ে দেখছেন।