স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই নিয়োগের বিরুদ্ধেই ফের প্রশ্ন তোলে মামলাকারীরা। অভিজিৎ সাধুখাঁ-দের মূল অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত রুলকে চ্যালেঞ্জ করেই গোটা প্রক্রিয়া এগোনো হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারবার আইনি জটিলতায় আটকে যাচ্ছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (26 Thousand Job Cancel)। বিভিন্ন পর্যায়ে মামলা-মোকদ্দমার জেরে কখনও হাইকোর্ট (Calcutta High Court), কখনও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে এই নিয়োগ কার্যত থমকে গিয়েছে। বয়ঃজনিত সমস্যা সহ একাধিক কারণে আগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, যার জেরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।
এই নিয়োগকে ঘিরে রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) বিরুদ্ধে একাধিক মামলা প্রথমে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ ও পরে ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। সেখান থেকে বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারীদের তরফে শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মামলা খারিজ হয়ে গেলেও, অভিজিৎ সাধুখাঁ-সহ ৫৫ জন মামলাকারীর করা একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে চলতে থাকে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সেই নিয়োগের বিরুদ্ধেই ফের প্রশ্ন তোলে মামলাকারীরা। অভিজিৎ সাধুখাঁ-দের মূল অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত রুলকে চ্যালেঞ্জ করেই গোটা প্রক্রিয়া এগোনো হয়েছে। এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হলে, গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ শীর্ষ আদালত সমস্ত অভিযোগ ও যুক্তি উল্লেখ করে মামলাকারীদের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার অভিজিৎ সাধুখাঁ-সহ ৫৫ জন মামলাকারী বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে হাজির হন। মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী। শুনানির শুরুতেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে কেন এই মামলা দায়ের করা হল। উত্তরে মামলাকারীদের আইনজীবী জানান, এই মামলা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই দায়ের করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই হাইকোর্টে যাওয়ার অনুমতি মিলেছিল।
আইনজীবীর যুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নিয়োগ সংক্রান্ত যে নতুন রুল তৈরি করা হয়েছে, তা ২০১৬ সালের এসএসসি রুল মেনে হয়নি। অর্থাৎ ২০১৬ সালের বিধির পরিপন্থী হয়েই ২০২৫ সালের রুল কার্যকর করা হয়েছে - এটাই মামলাকারীদের মূল অভিযোগ। এই যুক্তির ভিত্তিতে মামলাটি গ্রহণ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
শুনানিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীও আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি সাপেক্ষেই এই মামলা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা এসএসসিকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই হলফনামায় কমিশনকে নতুন রুল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এসএসসির ২৬ হাজার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও এক দফা বাড়ল। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।