ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও মহকুমা শাসক (এসডিএম)-কে সব রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 20 January 2026 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga Incident) সাম্প্রতিক হিংসা ও অশান্তি নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বেলডাঙার ঘটনায় (Beldanga Unrest) জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দিয়ে তদন্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকারই (State Govt)। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছে আদালত।
ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সুপার (SP) ও মহকুমা শাসক (SDM)-কে সব রকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ জেলায় বর্তমানে যে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন রয়েছে, প্রয়োজনে সেই বাহিনী বেলডাঙাতেও ব্যবহার করতে হবে। এনআইএ (NIA) প্রসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, আবেগ বা রাজনৈতিক চাপ নয়, আইন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই কেন্দ্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করে, এই মামলায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বলেন, মুর্শিদাবাদে ধারাবাহিক ভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে আদালত গভীর ভাবে চিন্তিত বলেও মন্তব্য করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে (State Govt) ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই হলফনামায় জানাতে হবে, জেলায় ঠিক কত সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কোন এলাকায় কী ভাবে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী চার সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকেই বেলডাঙা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পথ অবরোধ, ভাঙচুর, ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ - পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শনিবারও উত্তেজনা কমেনি। টানা দু’দিনে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও সামনে নিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। একাধিক অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বেলডাঙার এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা - শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।