কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যেসব ছোটখাটো ঝামেলার খবর শোনা যাচ্ছে, সেগুলি জেলা স্তরেই সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 20 January 2026 20:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় না থাকলে শুনানি হবে না— এসআইআর (SIR West Bengal) আবহে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কমিশন (EC)। সিইও দফতর সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যে পুরোপুরি রাজ্য সরকারের, তা ফের একবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের কড়া অবস্থান, কোথাও অশান্তি হলে বা তার জেরে শুনানি বন্ধ হয়ে গেলে তার জবাব দিতে হবে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তা অর্থাৎ ডিজি রাজীব কুমারকে (DG Rajeev Kumar)।
সুপ্রিম কোর্টের গতকালের নির্দেশ মনে করিয়ে দিয়ে সিইও দফতরের এক কর্তা বলেন, 'অর্ডার কপির সাত নম্বর পয়েন্টটা পড়ে নিন। শুনানি পর্ব শুধু নয়, বাকি SIR পর্ব পুরোটাই মসৃণ করার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার ডিজি কী করবেন সেটা তাঁর ব্যাপার।'
এখানেই মনে করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কমিশন বা সিইও দফতর আর বিশেষ ভাবিত নয়।

এদিন, কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যেসব ছোটখাটো ঝামেলার খবর শোনা যাচ্ছে, সেগুলি জেলা স্তরেই সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ পরিস্থিতি গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) নিশ্চয়ই বিষয়টি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO West Bengal) দফতরে জানাতেন।
কমিশনের দাবি, মঙ্গলবার সারাদিনে রাজ্যের কোনও জেলা থেকেই কোনও রকম অশান্তি বা শুনানি বিঘ্নিত হওয়ার খবর আসেনি। ফলে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে বলেই তাদের মত। তবে একই সঙ্গে রাজ্যকে সতর্ক করে কমিশন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলায় সামান্য ছেদ পড়লেও দায় এড়ানো যাবে না।
যদিও, এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) নামে হয়রানির অভিযোগে রাজ্যের একের পর এক জায়গায় অশান্তির খবর এসেছে। ফরাক্কা ও চাকুলিয়ার পর এদিন উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতেও বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে (BDO office vandalized in Sandeshkhali)।
অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী আচমকাই সন্দেশখালির বিডিও দফতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিসের ভেতরে রাখা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি তছনছ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আকস্মিক এই হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিডিও দফতরের কর্মীরা। অনেকে নিরাপত্তার অভাবে দফতর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নিত্যনতুন ফরমানে শুনানিতে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে ভোটারদের। কোনও কোনও ক্ষেত্রে নথি জমা করার পরও কোনও অ্যাকনলেজমেন্ট কিংবা প্রাপ্তি স্বীকারের কাগজ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। এই মর্মে সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, কমিশনকে রসিদ দিতে হবেই।
কমিশন সূত্রে খবর, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে রিসিট দেওয়ার নীতি-নির্দেশ খুব তাড়াতাড়ি জানিয়ে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, কমিশন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এক বা দুই সন্তানের পিতা এমন ব্যক্তিদের নামের পাশে বিভিন্ন জায়গায় আট, দশ, বারো বা তারও বেশি সন্তানের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই ধরনের গরমিল সম্পূর্ণভাবেই বিএলও স্তরে ঘটেছে এবং সে সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে পৌঁছেছে।
কমিশন জানিয়েছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি সংশ্লিষ্ট বিএলও-দের ভুল প্রমাণিত হয়— তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। এই ধরনের ভুলকে ‘গর্হিত অন্যায়’ বলেই উল্লেখ করেছে তারা।