বর্ধমান শহরের পেট শপগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গত কয়েকদিন উদ্বেগ কাটানোর সবচেয়ে প্রচলিত ওষুধগুলি কাউন্টারে আসতে না আসতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ ছাড়াও কিছু রাসায়নিক ওষুধ আছে এক্ষেত্রে। কিন্তু শব্দ দানবের উৎপাত এতটাই প্রাণীদের জন্য এই সমস্ত ওষুধ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকান মালিকরা।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 19:35
চন্দন ঘোষ, পূর্ব বর্ধমান: দীপাবলি শেষ হলেও শব্দবাজির ভূত পিছু ছাড়ছে না। এই শব্দবাণে প্রবীণ, অসুস্থ মানুষদের যেমন কষ্ট, ঠিক তেমনি সমস্যায় প্রাণীরাও। রাস্তার কুকুর-বিড়ালরা তো বটেই, ঘরের চার দেওয়ালের মধ্য়ে রয়েছে যারা, তারাও অসহায়।
গত কয়েকদিনে চিত্রটা উদ্বেগজনক রূপ পেয়েছে বর্ধমানেও। বর্ধমানের ঘোড়দোড়চটি বা মুচিপাড়ার দুটি বেসরকারি হাসপাতালে কয়েকশো রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে কুকুর বেশি, বিড়াল কম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: জাহাঙ্গীর খান জানালেন, শব্দবাজি শারীরিক এবং মানসিক, দুদিক দিয়েই ক্ষতি করছে এই প্রাণীদের। অতিরিক্ত উচ্চশব্দে তাদের শ্রবণশক্তি চিরস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। তীব্র শব্দের কারণে কুকুরদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ারও সম্ভাবনা সবসময়ে প্রবল থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, শব্দের তীব্রতা এত বেশি যে কুকুররা অজ্ঞানও হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "ভয়ের কারণে তারা দিশেহারা হয়ে ছুটোছুটি শুরু করায় বিপদ ডেকে আনছে। রাস্তার কুকুরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শব্দের কারণে নিজেদের পরিচিত এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ায় সেখানে অন্য কুকুরদের সঙ্গে তাদের ঝগড়া হচ্ছে। এতে কুকুরদের রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে। সংখ্যায় কম হলেও খরগোশ ও পাখিও এতে আক্রান্ত হচ্ছে।"
অন্য একটি পেট হাসপাতালের কর্ণধার বৈশাখী চক্রবর্তী বলেন, "ওরা কথা বলতে পারে না। কিন্তু ওদের কষ্ট অবর্ণনীয়। বিভিন্ন ব্রিডের কুকুররা এতে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। মাথা গুঁজে পড়ে থাকছে। হাসপাতালে নিয়ে আসতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে এই সময় কুকুর যারা পোষেন তাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ভয় কাটাতে সঙ্গ দিতে হবে। সাহায্য করতে হবে।"
প্রাণী প্রশিক্ষক ও পশুপ্রেমী অর্ণব দাস দীর্ঘদিন বিভিন্ন পশুপাখি নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর কথায়, কুকুর খুব সংবেদনশীল প্রাণী। শব্দের কম্পাঙ্ক সহ্যসীমার বাইরে হলে এরা অস্থির হয়ে পড়ে। খাওয়া বন্ধ করে। মালিক বা প্রিয়জনকে খোঁজে। আড়াল বা খাটের নিচে চলে যেতে চায়। এই সময় জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। ধৈর্য ধরে তাদের সময় দিতে হবে।" তাঁর পর্যবেক্ষণ দীপাবলির অতিরিক্ত আলো পাখিদেরও বিপদে ফেলছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে পাখিরাও। বেশ কিছু পাখিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে আজকাল।"
বর্ধমান শহরের পেট শপগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গত কয়েকদিন উদ্বেগ কাটানোর সবচেয়ে প্রচলিত ওষুধগুলি কাউন্টারে আসতে না আসতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ ছাড়াও কিছু রাসায়নিক ওষুধ আছে এক্ষেত্রে। কিন্তু শব্দ দানবের উৎপাত এতটাই প্রাণীদের জন্য এই সমস্ত ওষুধ সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকান মালিকরা।