শুক্রবার সকালে নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি সাফ জানান, রাজ্যের বর্তমান শাসকের অত্যাচারে বাংলার মানুষ আজ অতিষ্ঠ। মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 10 April 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্য ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) নিরঙ্কুশ জয়। পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখলে তাই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে পদ্ম শিবির (BJP West Bengal)। চলতি বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যেই গত কয়েক দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ‘চার্জশিট’ পেশ করে গিয়েছেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার ফের রাজ্যে পা রাখছেন তিনি। লক্ষ্য, রাজ্যবাসীর সামনে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ (BJP Manifesto 2026) তুলে ধরা। তবে কলকাতায় পা রাখার আগেই সমাজমাধ্যমে শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন শাহ।
শুক্রবার সকালে নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি সাফ জানান, রাজ্যের বর্তমান শাসকের অত্যাচারে বাংলার মানুষ আজ অতিষ্ঠ। মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে। শাহের কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের ভয়ের রাজত্ব থেকে পশ্চিমবঙ্গকে মুক্ত করতে বিজেপি বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই আজ কলকাতায় আমি দলের সংকল্পপত্র প্রকাশ করব।” কেবল ইস্তাহার প্রকাশই নয়, এ দিন তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে মেদিনীপুরেও। বিকেলের দিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় একটি জনসভা করবেন তিনি। এরপর খড়গপুরে একটি বর্ণাঢ্য রোড শো-তে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। শাহের এই পোস্ট ঘিরেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বাংলার মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি যে রীতিমতো মুখিয়ে আছেন, সে কথাও তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
TMC से त्रस्त बंगाल अब परिवर्तन चाहता है।
आज कोलकाता में TMC के ‘भय राज’ से बंगाल को मुक्त करने के आधार, भाजपा के ‘संकल्प पत्र’ का विमोचन करूँगा।
इसके पश्चात, पश्चिम मेदिनीपुर के डेबरा में जनसभा और खड़गपुर में रोड-शो के माध्यम से प्रदेश के बहनों-भाइयों के बीच रहने के लिए उत्सुक…— Amit Shah (@AmitShah) April 10, 2026
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংকল্পপত্র প্রকাশের মাধ্যমেই বিজেপি বোঝাতে চাইছে আগামীর বাংলার জন্য তাদের রূপরেখা ঠিক কী। কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিই এই ইস্তাহারের মূল ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শাহের এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ তিনি সরাসরি তৃণমূলের ‘ভয়ের শাসন’ শেষ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, শাহের আসার ঠিক আগের দিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ঝোড়ো প্রচার সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একদিনে তিনটি মেগা সভা করেছেন তিনি। হলদিয়া দিয়ে সফর শুরু করে আসানসোল এবং বীরভূমের সিউড়িতে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রচারের কাজে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী নিজেই গোটা প্রচার পর্বে অন্তত ১৪টি জনসভা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
আগামী ১১ এপ্রিল ফের বাংলায় আসছেন মোদী। সেদিন জঙ্গিপুর, কাটোয়া এবং বালুরঘাটে পর পর সভা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তিন এলাকা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। তবে শুধু ১১ তারিখ নয়, সেদিন রাতেই তিনি শিলিগুড়িতে পৌঁছে যাবেন। ১২ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্রে একটি বিশালাকার রোড শো করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। অর্থাৎ পরপর দু’দিন প্রধানমন্ত্রীর বাংলার মাটিতেই অবস্থান করা রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।
একদিকে শাহের রণকৌশল আর অন্যদিকে মোদীর জনমোহিনী প্রচার - এই দুইয়ের মেলবন্ধনে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি।