২০২২ সালের ২২ মার্চ সন্ধেয় বগটুই গ্রামের মোড়ে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তিনি খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই রাতেই ঘটে নারকীয় বগটুই গণহত্যা।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 April 2026 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলদিয়া ও আসানসোলের পর বৃহস্পতিবারের শেষ জনসভা (West Bengal Assembly Election 2026) করতে বীরভূমের সিউড়িতে পৌঁছেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। আর লাল মাটির জেলা থেকে কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। বগটুই হত্যাকাণ্ড (Bogtui Rampurhat Incident) থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় বোমার কারখানা - একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে কোণঠাসা করলেন প্রধানমন্ত্রী। বীরভূমের সভা থেকে তাঁর সাফ ঘোষণা, “রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে অনুপ্রবেশে মদতদাতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত শুরু হবে এবং দোষীদের জেলে ঢোকানো হবে।”
এদিন সিউড়ির সভা থেকে বগটুইয়ের নৃশংস ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়ে মোদী বলেন, “বগটুইয়ে যা ঘটেছিল, তা কেবল একটি ঘটনা নয়, ওটা মানবতার নামে কলঙ্ক। যেভাবে নির্দোষ মহিলা ও শিশুদের জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা মহাজঙ্গলরাজ ছাড়া আর কী! এই নারকীয় রাজত্বের অবসান হওয়া দরকার।” বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে শাসক দলকে বিঁধে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে রাজ্যের অলিতে-গলিতে তাজা বোমা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। তৃণমূল সরকার এই বোমার কারখানাকেই আজ ক্ষুদ্রশিল্পে পরিণত করেছে।”
কী ঘটেছিল বগটুইয়ে?
২০২২ সালের ২২ মার্চ সন্ধেয় বগটুই গ্রামের মোড়ে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তিনি খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই রাতেই ঘটে নারকীয় বগটুই গণহত্যা।
বাড়ির দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পালানোর সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল আটজনের। পরে হাসপাতালে মারা যান আরও দুজন। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা ভাদু ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল।
অন্যদিকে, বগটুইয়ে গণহত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তৃণমূলের ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি আনারুল হোসেনকে দায়ী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই পলাতক আনারুলকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ২৬-এর ভোটের মধ্যে চার বছর আগের সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে আনলেন মোদী।
পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এদিনও কড়া হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই অনুপ্রবেশ নিয়ে বিশেষ তদন্ত হবে। মোদীর কথায়, “যারা অনুপ্রবেশে মদত দিয়েছে, তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের রেয়াত করা হবে না। এটা মোদীর গ্যারান্টি। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সোজা জেলে ঢোকানো হবে।”
সভা শুরুর আগে হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় মানুষের ভিড় দেখে অভিভূত প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সব জায়গায় এখন একটাই সুর শোনা যাচ্ছে - পরিবর্তন চাই। বাংলার মানুষ এবার কোমর বেঁধে নেমেছে।” ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান, আগামী ৪ মে রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করুন। কেন্দ্রের ‘পিএম’ আর রাজ্যের ‘সিএম’ মিলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার চালালে তবেই বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
বীরভূমের রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝে এবং স্থানীয় আবেগকে ছুঁয়ে এদিন যেভাবে মোদী বগটুই ও বোমা শিল্পের প্রসঙ্গ টানলেন, তা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।