অনেক দিন পর দিল্লি কলকাতা বোঝাপড়া আপাত নজরে বেশ ভালই দেখাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের (Manoj Pant) মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর আবেদনে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র।

মোদী ও মমতা
শেষ আপডেট: 1 July 2025 09:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর পরই সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। অথচ গত ১১ বছরে নবান্ন বারবার অভিযোগ করেছে যে প্রতি পদে অসহযোগিতাই করছে কেন্দ্র। বাংলার বিরুদ্ধে আর্থিক অবরোধ চালাচ্ছে দিল্লি (Delhi)।
তবে এখন, অনেক দিন পর দিল্লি কলকাতা বোঝাপড়া আপাত নজরে বেশ ভালই দেখাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের (Manoj Pant) মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর আবেদনে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। গত ২৮ জুন নবান্ন (Nabanna) থেকে এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কর্মিবর্গ মন্ত্রকে চিঠি পাঠানো হয় আর ৩০ জুনের মধ্যেই তা মঞ্জুর করে দেয় নয়াদিল্লি।
মুখ্য সচিব পদে সোমবার মনোজ পন্থের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁকে আরও ৬ মাস এক্সটেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের কর্মিবর্গ মন্ত্রকের অনুমতি নিতে হয়, যা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে রয়েছে। নবান্নের অনেকের মতে, শনিবার চিঠি পাঠিয়ে যেভাবে সোমবার ছাড়পত্র মিলেছে তাতে একটি সুষ্ঠু বোঝাপড়া দেখা যাচ্ছে। এও হতে পারে যে চিঠি পাঠানোর আগে ঘরোয়া ভাবে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে জানিয়ে রাখা হয়েছিল।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে মুখ্যসচিব পদের দায়িত্ব নেন মনোজ পন্থ। প্রশাসনিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং চলমান প্রকল্পে ধারাবাহিকতা রাখার যুক্তিতেই দ্রুত ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র, এমনটাই দাবি নবান্ন সূত্রের।
এমনিতে মনোজ পন্থের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পরিচিতি দিল্লিতে মন্দ নয়, বরং বেশ ভাল। ইউপিএ জমানায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এই সিনিয়র আইএএস অফিসার। পরে যুগ্ম সচিব স্তরে তাঁর পদোন্নতি হয়। পরে ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সদর দফতরে তিনি ভারতীয় প্রতিনিধি হিসাবে প্রায় ৩ বছর ডেপুটেশনে ছিলেন তিনি।
মনোপ পন্থের আগে মুখ্য সচিব পদে বিপি গোপালিকার মেয়াদ একবার ৩ মাসের জন্য বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল দিল্লি। কিন্তু নবান্ন ফের তা ৩ মাস বাড়াতে চাইলে দিল্লি না জানিয়ে দেয়। এবার ৬ মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হল মনোজ পন্থের।