সারাদিন কান্দি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার সেরে বহরমপুর ফিরছিলেন অধীর। সন্ধে পৌনে ৭টা নাগাদ জীবন্তী এলাকায় আচমকাই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অধীরের কনভয়ের একটি গাড়িতে ধাক্কা মারে। যে গাড়িটিতে ট্রাকটি ধাক্কা দেয়, তার ঠিক পিছনের গাড়িতেই ছিলেন কংগ্রেস নেতা।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী
শেষ আপডেট: 8 April 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) একের পর এক দুর্ঘটনার খবর আসছে। এবার তার কবলে পড়লেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Congress Candidate Adhir Ranjan Chowdhuri)। বুধবার তাঁর কনভয়ে ধাক্কা মারে ট্রাক! এদিন সন্ধেয় কান্দি থেকে প্রচার সেরে বহরমপুর ফেরার পথে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। ঘটনায় অধীর চৌধুরী অক্ষত থাকলেও তাঁর বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পরেই জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।
এদিন সারাদিন কান্দি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার সেরে বহরমপুর ফিরছিলেন অধীর। সন্ধে পৌনে ৭টা নাগাদ জীবন্তী এলাকায় আচমকাই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অধীরের কনভয়ের একটি গাড়িতে ধাক্কা মারে। যে গাড়িটিতে ট্রাকটি ধাক্কা দেয়, তার ঠিক পিছনের গাড়িতেই ছিলেন কংগ্রেস নেতা। ঘটনায় নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ট্রাকটি পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস শিবির। অধীর চৌধুরীর এক সঙ্গী তথা কংগ্রেস নেতা কেতন জশওয়ালের অভিযোগ, যাবতীয় নির্বাচনী কর্মসূচির তথ্য আগে থেকেই পুলিশকে দেওয়া থাকে। তাও যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে থানা খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা পর পুলিশ সেখানে পৌঁছয়। স্থানীয় থানায় খবর দেওয়ার পরেও কেন এই বিলম্ব, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এও জানিয়েছেন, দুর্ঘনাগ্রস্ত গাড়ির থেকে কিছু দূরেই ছিল অধীর চৌধুরীর গাড়ি।
কংগ্রেসের একাংশের দাবি, খোদ প্রার্থীর নিরাপত্তায় এমন গাফিলতি কেন হবে? বিষয়টি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনায় ভোটমুখী বহরমপুরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অধীর চৌধুরী অবশ্য এই ঘটনার পরেও তাঁর স্বাভাবিক মেজাজেই রয়েছেন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁর কনভয়ে এই ধাক্কা লাগার ঘটনায় জেলা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যে প্রশ্নের মুখে পড়ল, তা বলাই বাহুল্য। ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এদিনই আবার শ্রীরামপুরের জনসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতার মাঝেই ঘটে বিপত্তি। দর্শকাশনে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ফুলকি বেরোতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপস্থিত সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের বক্তব্য থামিয়ে মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ উগরে দেন মমতা।
যখন মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই সময় সভার একটি অংশে বৈদ্যুতিক বক্স থেকে আচমকা শর্ট সার্কিট শুরু হয়। আগুনের ফুলকি ছিটকে আসে। বিষয়টি নজরে আসতেই মেজাজ হারান নেত্রী। বারংবার প্রশ্ন করেন, “কেন এরকম হবে?” গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা এও বলেন, ''এসব মিটিংয়ে কেয়ার নেওয়ার দরকার নেই? সবাইকে বাংলা থেকে সরিয়ে দিয়ে সেফটি-সিকিউরিটি দেখার লোক নেই?''