তৃণমূল সরকারের কাজকে ‘খুব ভাল’ বা ‘ভাল’ বলছেন ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রায় ২০.৬ শতাংশ মানুষ সরকারের কাজকে ‘খুব খারাপ’ এবং ১৮.৩ শতাংশ ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 8 April 2026 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশ-একুশ-চব্বিশের ধারা বজায় রেখে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও (West Bengal Assembly Election 2026) বাংলার রাশ কি তৃণমূলের হাতেই থাকতে চলেছে? সমীক্ষা সংস্থা সি ভোটারের (C Voter Survey) সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন পেয়ে টানা চতুর্থবার সরকারে আসতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উল্টোদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। বাম-কংগ্রেস বা অন্যান্য ছোট দলগুলি এই লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই চিহ্নিত।
রাজ্যের মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এখনও অমলিন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪৮.৫ শতাংশ মানুষ মমতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁদের প্রথম পছন্দ বলে জানিয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জনপ্রিয়তায় অনেকটাই পিছিয়ে, তাঁর পক্ষে রায় দিয়েছেন ৩৩.৪ শতাংশ মানুষ। ভোট শতাংশের হিসেবেও তৃণমূল (৪১.৯%) বিজেপির (৩৪.৯%) থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে। এমনকি ৩৬.৫ শতাংশ মানুষ বর্তমান তৃণমূল বিধায়কদের ওপরই আস্থা রাখার কথা বলেছেন।
তৃণমূল সরকারের কাজকে ‘খুব ভাল’ বা ‘ভাল’ বলছেন ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রায় ২০.৬ শতাংশ মানুষ সরকারের কাজকে ‘খুব খারাপ’ এবং ১৮.৩ শতাংশ ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। ধর্মীয় ও জাতিগত নিরিখে জনমতের এই বিভাজন স্পষ্ট। মুসলিম ভোটারদের ৪৪.২ শতাংশ মমতা সরকারের কাজে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেও, উচ্চবর্ণের হিন্দু ও তফশিলি জনজাতিভুক্ত ভোটারদের বড় একটি অংশ (২৬.৬%) প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ।
এ বারের নির্বাচনে ভোটারদের মনে সবচেয়ে বেশি কাঁটা হয়ে বিঁধছে বেকারত্ব (৩৭.২%)। এর পরেই রয়েছে আরজি কর কাণ্ড-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন (১৫.৯%)। এ ছাড়াও মূল্যবৃদ্ধি (১০.৫%) এবং দুর্নীতি (১০.৩%) বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, মুসলিম ভোটারদের কাছে বেকারত্বের চেয়েও এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিষয়গুলি বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখলেও বিজেপির অন্দরে বেশ কিছু ফাটল জনমত সমীক্ষায় ধরা পড়েছে। ১৯.৯ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, দলের ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই বিজেপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এছাড়া সুযোগ্য রাজ্য নেতৃত্বের অভাব (১৭.২%) এবং বাংলার সংস্কৃতি বুঝতে না পারার অভিযোগও (১২.৫%) গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একুশের নির্বাচনে ২২০টি আসন পেয়ে বিশাল জয় হাসিল করেছিল তৃণমূল। বর্তমান সমীক্ষার ফল বলছে, বিরোধী হাওয়ার মধ্যেও তৃণমূল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বেকারত্ব ও নারী নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভ এবং বিজেপির সাংগঠনিক লড়াই— সব মিলিয়ে ছাব্বিশের লড়াই মোটেও একপেশে হবে না।