ডেরেক ও'ব্রায়ানের পারিবারিক এক রসিকতার কথা বলে মমতা বলেন, “একদিন ডেরেকের মা ডেরেককে জিজ্ঞেস করেছিল, দারুণ ইংরেজি বলছে তো! ডেরেক তখন ওর মাকে বলে, তুমি তো আসল ব্যাপারটা জানো না। আসলটা হল, উনি দেখে বলছেন। পড়ে বলছেন।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 8 April 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে (West Bengal Assembly Election 2026) শাসন-ভাষণ বরাবরই মানুষকে কাছে টানার অন্যতম উৎস। কিন্তু সেই বাচনভঙ্গি যখন প্রযুক্তির আড়ালে ঢাকা পড়ে, তখন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাও বিরোধী রাজনীতির অন্যতম কাজ। বুধবার শ্রীরামপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে ঠিক এই মেজাজেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর নিশানায় ছিল বিজেপির তথাকথিত ‘মাতৃভাষা-বিরোধী’ অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘টেলিপ্রম্পটার-নির্ভর’ বক্তৃতা।
এ দিন শুরু থেকেই রসিকতার মেজাজে থাকা তৃণমূল নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনর্গল বক্তৃতার নেপথ্য কাহিনি ফাঁস করতে গিয়ে বলেন, “আমি সব ভাষাকে সম্মান করি। বিজেপি আমাদের ভাষা বিরোধী কেন? তুমি আমায় বাংলা ভাষায়, মাতৃভাষায় কথা বলতে দেবে না, আর তুমি দেখে দেখে...।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনমানসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার যে প্রভাব, তার অনেকটাই যান্ত্রিক কারসাজি। তিনি সাধারণ মানুষকে সহজ করে বুঝিয়ে বলেন, “কী করে জানেন? এই আমরা কাগজে দু'একটা পয়েন্ট লিখে রাখি, যাতে সংখ্যাটা ভুলে না যাই। আর ওদের একটা সামনে কাচ থাকে। চশমার থেকেও হালকা কাচ। আপনারা দেখতে পাবেন না। তাতে এক লাইন করে বড় বড় করে লেখা আসে। এদিকেও তাকানো যায়, ওদিকেও তাকানো যায়। সেটার নাম হচ্ছে টেলিপ্রম্পটার। আজকালকার ছেলে-মেয়েরা জানে। আমি আগে ভাবতাম, আরে... এত ভাল ইংরেজি কী করে বলছেন উনি! ও মা... পরে একটা মিটিংয়ে গিয়ে দেখলাম...। আমি সামনে বসেছিলাম, তখন দেখলাম ওরে ভাই, এর তো সামনে টেলিপ্রম্পটার তাই। সেটা দেখছে আর গড়গড় করে বলে যাচ্ছে।”
এখানেই থামেননি মমতা। ডেরেক ও'ব্রায়ানের পারিবারিক এক রসিকতার কথা বলে মমতা বলেন, “একদিন ডেরেকের মা ডেরেককে জিজ্ঞেস করেছিল, দারুণ ইংরেজি বলছে তো! ডেরেক তখন ওর মাকে বলে, তুমি তো আসল ব্যাপারটা জানো না। আসলটা হল, উনি দেখে বলছেন। পড়ে বলছেন।”
কেবল টেলিপ্রম্পটার নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই-এর অপব্যবহার নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শরীর ও কণ্ঠস্বর নকল করার এই প্রবণতাকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, “এখন শরীর নকল করেন, দেখেন না? আমার মতো দেখাবে, আমার মতো বলাবে, সেটা কিন্তু এআই।”
বক্তৃতার শেষে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা বোঝাতে গিয়ে মমতা বলেন, নিখুঁত যান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা অনেক বেশি জরুরি। তিনি বলেন, “কিন্তু এআই যাই করুক, অপারেশন থিয়েটারে যতই রোবট থাক, একজন ডাক্তারকেও সশরীরে থাকতে হয়। কারণ কিছু গন্ডগোল হলে রোবট কিছু করতে পারে না।”