প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়গুলি। এমনকি কলকাতার বিধান ভবনের সামনেও দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান কর্মী-সমর্থকেরা।

শুভঙ্কর সরকার
শেষ আপডেট: 8 April 2026 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের অন্দরে জমতে থাকা ক্ষোভ আর কর্মী-সমর্থকদের লাগাতার বিক্ষোভের কাছে শেষমেশ নতিস্বীকার করতে বাধ্য হল বিধান ভবন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) রণকৌশলে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বুধবার রাজ্যের সাতটি আসনে প্রার্থী বদলের (Congress Candidate Change) ঘোষণা করল কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের যে আগুন জেলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত ছড়িয়েছিল, তা নেভাতেই এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়গুলি। এমনকি কলকাতার বিধান ভবনের সামনেও দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্ষোভ প্রশমনে নামে প্রদেশ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, বিভিন্ন আসন থেকে আসা অভিযোগগুলি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনার পর একটি রিপোর্ট পাঠানো হয় দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সঙ্কেত মিলতেই বুধবার সাতটি কেন্দ্রের পুরনো নাম বদলে নতুন মুখ সামনে আনা হয়। একই সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া আসনে প্রণব ভট্টাচার্যের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে রদবদল ঘটানো হয়েছে।
নদিয়া: নাকাশিপাড়ায় গোলাম কিব্রিয়া মণ্ডলের বদলে প্রার্থী হচ্ছেন তাহির শেখ। চাপড়ায় রহিদুল মণ্ডলের জায়গায় লড়বেন আসিফ খান।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মিনাখাঁয় বর্ণালী নস্করের পরিবর্তে সুনয়না বিশ্বাস এবং মন্দিরবাজারে কৌশিক বৈদ্যের বদলে টিকিট দেওয়া হয়েছে চাঁদ সর্দারকে।
পূর্ব বর্ধমান: এই জেলায় তিনটি আসনে বদল এসেছে। রায়নায় অনিক সাহার বদলে পম্পা মালিক, কেতুগ্রামে মহম্মদ মফিরুল কাসেমের বদলে শেখ আবু বকর এবং আউশগ্রামে নিশা বড়ালের জায়গায় তাপস বড়ালকে প্রার্থী করা হয়েছে।
একুশের নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধেও শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল শতাব্দীপ্রাচীন এই দলকে। ‘সংযুক্ত মোর্চা’র ঝান্ডা নিয়ে একমাত্র নওশাদ সিদ্দিকি ভাঙড় থেকে জয়ী হলেও কংগ্রেস ও সিপিএমের ঝুলি ছিল খালি। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনও জোটের পথে না হেঁটে একলা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাত শিবিরের সেনাপতিরা। তবে ভোটের ময়দানে নামার আগেই দলের অন্দরের এই ডামাডোল সামলে কংগ্রেস কতটা জমি পুনরুদ্ধার করতে পারবে, এখন সেটাই দেখার।