আজই প্রথম দফার নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। হাতে সময় খুবই কম। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, দুপুর তিনটার মধ্যে সমস্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে হবে। কিন্তু মোত্তাকিন আলমের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাই হল, তাঁর নাম এখনও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

মহম্মদ মোত্তাকিন আলম
শেষ আপডেট: 6 April 2026 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে কংগ্রেস শিবিরে একদিকে যেমন স্বস্তির হাওয়া, অন্যদিকে তেমনই অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়েছে। ফরাক্কার প্রার্থী মহতাব শেখ এসআইআর ট্রাইব্যুনালের (SIR Tribunal) রায়ে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে, তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথে কোনও বাধা নেই তাঁর।
তবে একই পরিস্থিতিতে থাকা আরেক কংগ্রেস প্রার্থী (Ratua Congress Candidate) এখনও সেই স্বস্তি পাননি। রতুয়ার প্রার্থী মহম্মদ মোত্তাকিন আলমের (Md Mottakin Alam) নাম এখনও ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে। ফলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। তিনিও ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, ঠিক যেমন করেছিলেন মহতাব শেখ।
আজই প্রথম দফার নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। হাতে সময় খুবই কম। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, দুপুর তিনটার মধ্যে সমস্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে হবে। কিন্তু মোত্তাকিন আলমের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাই হল, তাঁর নাম এখনও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে তিনি আদৌ মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। সেদিনই তিনি জানতে পারেন, অ্যাডজুডিকেশন তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। এরপর তিনি দ্রুত ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যেই তাঁর কেন্দ্র প্রথম দফার ভোটের তালিকায় থাকায় চাপ আরও বেড়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল সেই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নির্ধারিত। ফলে মনোনয়ন জমার সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তাঁর পক্ষে নির্বাচনে লড়াই করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আইনি লড়াই এখন একমাত্র ভরসা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, যেসব প্রার্থীর নাম বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তি দ্রুত করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষ্পত্তির পরই তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এখানেই উঠছে আরও বড় প্রশ্ন। মোত্তাকিন আলম শুধু প্রার্থী নন, এর আগে তিনি কালিয়াচকের বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। সেই প্রেক্ষিতে তাঁর ভোটাধিকার কীভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর নাম তালিকায় নেই, তা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন জমার শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে রতুয়ার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আদালতের নির্দেশ এবং ট্রাইব্যুনালের পদক্ষেপের উপরই নির্ভর করছে তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে নামতে পারবেন কি না।