শহরের এক বিলাসবহুল হোটেলে প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই নির্বাচনী ইস্তাহার (Congress Manifesto) প্রকাশ করে খড়্গে জানান, কংগ্রেসই হতে পারে বাংলার আগামীর প্রকৃত বিকল্প।

কংগ্রেসের ইস্তাহার
শেষ আপডেট: 8 April 2026 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ দু'দশক পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একলা চলার পথে হেঁটেছে কংগ্রেস (Congress)। মঙ্গলবার কলকাতায় পা রেখেই বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য দলের ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। শহরের এক বিলাসবহুল হোটেলে প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই নির্বাচনী ইস্তাহার (Congress Manifesto) প্রকাশ করে খড়্গে জানান, কংগ্রেসই হতে পারে বাংলার আগামীর প্রকৃত বিকল্প।
কংগ্রেসের এই ইস্তাহারে একদিকে যেমন উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তেমনই কৌশলে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান সরকারের 'জনমোহিনী' প্রকল্পের পাল্টা প্রতিশ্রুতিও।
কংগ্রেসের ইস্তাহারের নজরকাড়া প্রতিশ্রুতি
তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে কংগ্রেস এনেছে ‘দুর্গা সম্মান’ প্রকল্প। যেখানে মহিলাদের মাসিক ২,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইস্তাহারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হল:
কৃষক সম্মান: রাজ্য সরকারের ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের ধাঁচে কৃষকদের বছরে ১৫,০০০ টাকা সহায়তা এবং কৃষি কাজে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিধান স্বাস্থ্য সুরক্ষা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের নামে ১০ লক্ষ টাকার একটি স্বাস্থ্য বিমা চালুর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
যুব সম্মান: এক বছরের মধ্যে সরকারি দফতরের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ।
শিক্ষার আলো: স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, কৃত্রিম মেধা (AI) শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ার প্রতিশ্রুতি।
ইস্তাহার প্রকাশের পর মল্লিকার্জুন খাড়্গে তৃণমূল এবং বিজেপি, উভয়পক্ষকেই কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আমরা বাংলায় স্রেফ টাকা বিলোনোর রাজনীতি করতে আসিনি, আমরা এসেছি 'রিবিল্ড' ও 'রিফর্ম' করতে। এখানে শিল্প আর কর্মসংস্থান প্রয়োজন, যা এই সরকার দিতে পারেনি। অন্যদিকে বিজেপি শুধু মেরুকরণের রাজনীতি আর ভয় দেখানোর খেলায় মত্ত।"
কর্নাটক, তেলঙ্গানা বা হিমাচল প্রদেশের উদাহরণ টেনে খাড়্গে দাবি করেন, কংগ্রেস যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা পালন করে। মানুষের কাছে তাঁর প্রশ্ন, "আপনারাই ঠিক করুন, সাময়িক রাজনীতি চান নাকি দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি?"
জাতীয় স্তরে 'ইন্ডিয়া' জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও কেন বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে একলা লড়াই? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে খাড়্গে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, জাতীয় রাজনীতি আর রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ আলাদা। তাঁর কথায়, "কেরলে আমরা বামেদের বিরুদ্ধে লড়ছি, বাংলায় লড়ছি তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কিন্তু যখনই দিল্লির মসনদ থেকে বিজেপিকে সরানোর জাতীয় লড়াই আসে, তখন আমরা দেশের স্বার্থে সবাই একজোট।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিশ বছর পর একক শক্তিতে লড়াইয়ের এই সিদ্ধান্ত বাংলার বিধানসভা ভোটের লড়াইকে এবার ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী উত্তেজনার কেন্দ্রে নিয়ে এল। এখন দেখার, কংগ্রেসের এই ‘বিকল্প’ মডেল বাংলার মানুষ কতটা গ্রহণ করেন।