পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) বিশেষ প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধীর চৌধুরী
শেষ আপডেট: 7 April 2026 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) বিশেষ প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বিশেষত মুর্শিদাবাদ ও মালদহ— এই দুই জেলায় ভোটাধিকার হারানোর তালিকায় যে বিপুল সংখ্যা উঠে এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Mamata Banerjee) আক্রমণ করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তাঁর কথায়, "ভোট প্রচারে গেলেই নাম বাদ যাওয়া মানুষ ঘিরে ধরছেন। বলছেন, কেন এসেছেন ভোট চাইতে? আমরা তো ভোটাধিকারই হারিয়েছি! ওকালতি করতে গিয়েই বাংলায় ঝঞ্ঝাট ডেকে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আরেকবার উকিলের ড্রেস পরে কোকিলকণ্ঠে আপনি বলুন, এভাবে ভোট হতে পারে না। যেখানে বৈধ ভোট না দিয়ে বঞ্চিত থাকবে। আমি আবার দাবি করছি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, যদি আপনি সৎ ও প্রকৃত অর্থে মানুষের প্রতিনিধি হন, তাহলে আপনার দায়িত্ব ইলেকশন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ভোট স্থগিত রাখার জন্য দাবি করা।"
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অযোগ্য ঘোষিত ভোটারের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদেই ১১ লক্ষের বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ নাম। অর্থাৎ, প্রতি বিধানসভা পিছু গড়ে ২০ হাজার মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। মালদহের চিত্রটি আরও ভয়াবহ; সেখানে ৮ লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার জন।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার এই নিবিড় সংশোধন নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন। তাঁর আপত্তির জেরেই শীর্ষ আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, সামান্য বানান ভুলের কারণে যেন কারও নাম বাদ না যায়। মমতার আবেদন ছিল, ২০২৬-এর ভোট যেন ২০২৫-এর তালিকা অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়। কিন্তু কমিশনের সাম্প্রতিক খতিয়ান সেই লড়াইকে এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
কমিশনের এই ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছে সব পক্ষই। বৈধ ভোটাররা যদি ব্রাত্য থেকে যান, তবে আসন্ন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা কতটা রক্ষা পাবে— সেই চর্চাই এখন সব মহলে।