এক্স-এ পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তড়িঘড়ি, বিশৃঙ্খল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এসআইআর চালানো হচ্ছে।
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 December 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআরের (SIR) চাপে আরও এক বিএলওর আত্মহত্যার (BLO Suicide) অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়ার রানিবাঁধের ওই বুথ লেভেল অফিসারের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেকের দাবি, এই প্রক্রিয়ার চাপেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এক্স-এ পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তড়িঘড়ি, বিশৃঙ্খল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এসআইআর চালানো হচ্ছে। সেই “অমানবিক চাপ” সহ্য করতে না পেরেই ওই বিএলও চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। অভিষেকের কথায়, “এই প্রক্রিয়ার জেরে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক, মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও ভয়ের কারণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।”
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, যে কাজটি হওয়ার কথা ছিল ধাপে ধাপে, পরিকল্পিত ভাবে, তা কার্যত ‘বুলডোজার’ চালিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর মতে, কমিশন এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষায় এবং একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক অঙ্ক মেলাতে নতজানু হয়ে পড়েছে।
বিজেপিকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক বলেন, “মানুষ যদি ক্লান্তি, হতাশা বা আতঙ্কে মারা যান, বিজেপির কাছে তা কেবল ক্ষমতার খেলায় গ্রহণযোগ্য ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’।” পোস্টের শেষাংশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, “ইতিহাস সব দেখছে। বাংলা ক্ষমা করবে না, বাংলা ভুলেও যাবে না।”
মৃত হারাধন মণ্ডল (Haradhan Mondal), রাজাকাটা মাঝেরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (Rajakata Majherpara Primary School) প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পুলিশের দাবি, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোটে (Suicide Note) লেখা ছিল, ‘আমি আর চাপ নিতে পারছি না’।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে স্কুল চত্বরে ঢুকে প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। একটি শ্রেণিকক্ষ দীর্ঘক্ষণ বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে প্রধান শিক্ষকের নিথর দেহ। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রানিবাঁধ থানায় (Ranibandh Police Station)। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে এবং গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেই নোটে হারাধন মণ্ডলের দাবি, বিএলও হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি অতিরিক্ত মানসিক চাপে পড়ছিলেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের চাপ আর নিতে পারছিলেন না বলেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—নোটে এমন ইঙ্গিতই মিলেছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। তবে নোটের সমস্ত বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখে তদন্ত এগোচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
হারাধন মণ্ডল রাজাকাটা এলাকার পরিচিত মুখ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয়দের কাছে একজন শান্ত, দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। স্কুলের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁকে কিছুটা চিন্তিত ও চুপচাপ দেখাচ্ছিল। তবে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা কেউ কল্পনাও করেননি বলে দাবি তাঁদের। স্কুলের মধ্যে এই ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।