অভিষেক বলেন, পাড়ার কোনও ভালো লোক বিজেপি করে না। বেইমানরা বিজেপি করে। যার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা তাঁকে প্রার্থী করেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 April 2026 15:04
দ্যা ওয়াল ব্যুরো: তালড্যাংড়ার সভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ অভিষেকের। বিজেপির প্রার্থীকে আসলে তৃণমূলের ফেলে দেওয়া নেতা বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। পাশপাশি, বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, এর আগে অরূপ চক্রবর্তি, তারপর ফাল্গুনি সিংহকে জিতিয়েছেন এখানকার মানুষ। তাঁর আবেদন, "এই নির্বাচন শুধু তৃণমূলকে জেতানোর জন্য নয়। যারা আমাদের ধাপে ধাপে বঞ্চিত করেছে, তাদের উচিৎ শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন।"
বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, "সব রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার। আপনি, রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। একদিকে আপনারা থাকবেন, একদিকে আমি থাকব।" বিজেপিকে আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, "একদিকে শিক্ষক, অন্যদিকে দু'নম্বরি চিটিবাজ। আপনি ভেবে নিন কার পাশে থাকবেন।" তালড্যাংরা বিধানসভায় ১৫টা গ্রাম পঞ্চায়েত। এখানে ৭৩ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান বলে জানিয়েছেন অভিষেক। পাশাপাশি, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে গত দুই বছরে এই বিধানসভায় ১৪ হাজার ৫৫০ জন মানুষকে পাকা বাড়ি দেওা হয়েছে এবং তিন লক্ষ মানুষ প্রতি মাসে বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কৃষকবন্ধু যোজনায় এই বিধানসভা অঞ্চলে ৫২ হাজার কৃষক সাহায্য পান। নির্বাচনের আগে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণার পরে বিরোধীরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেন যে আবেদনকারীরা এই টাকা পাবেন না। এর জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যারা ব্যাঙ্গ করেছিল জীবনে যুবসাথী হবে না। তারা শুনুন এই বিধানসভা এলাকায় ২৫ হাজার ৭৮২ জন ১৫০০ টাকা করে পেয়েছেন, ঘোষণার এক মাসের মধ্যে। ১ লক্ষ ৩৪ হাজার বোন উপকৃত হয়েছেন কন্যাশ্রীতে।" তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, "যদি দিল্লির নেতারা প্রমাণ করতে পারেন মোদী সরকারের একটিও টাকা দিয়েছেন বাংলার বিভিন্ন যোজনার জন্য তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। এদের পুরোটাই দু'নম্বরি। পাড়ার কোনও ভালো লোক বিজেপি করে না। বেইমানরা বিজেপি করে। যার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা তাঁকে প্রার্থী করেছে। যাকে আমরা বর্জন করছি, তাকে ওরা গ্রহণ করছে।"
তাঁর অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসে দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। মোদী আপনার পকেট কেটে আপনাকে লুটছে আর মমতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করে আপনার পকেটে টাকা দিচ্ছে। এটাই মোদীর আর বিজেপির আসল চেহারা। বিজেপির দ্বিচারিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "কেউ বলছে বিজেপি এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে, আবার কেউ বলছে টাকা বাড়িয়ে এবে। কিন্তু, বিজেপি শাসিত কোনও রাজ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত পরিবারের সকলকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারলে, সব প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেব।" তিনি আরও বলেন, "দিল্লিতে নিশ্বাস নিতে পারছে না, মধ্যপ্রদেশে জল দিতে পারছে না, বিহারে ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। যারা এগুলো পারে না তারা কী ভাবে উন্নয়ন করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন সরকার থাকলে সবাই আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন।"