কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে গিয়েছিলেন পরিচারিকার খোঁজে। ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিকেলে গ্রামে অচেনা লোক দেখে ছেলেধরা গুজব ছড়ায়। গাড়ি ঘিরে ফেলেছিল গ্রামবাসীরা।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ছেলেধরা গুজবে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টা হয়েছিল মা মেয়েকে। উদ্ধারে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল পুলিশ। বলাগড় থানার আসানপুর গ্রামের ২০১৭ সালের এই ঘটনায় ২৫ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী রঞ্জুবালা ঘোষ মেয়ে অপর্ণাকে নিয়ে বলাগড়ের আসানপুর গ্রামে গিয়েছিলেন পরিচারিকার খোঁজে। তাদের গাড়ির চালক ছিলেন বিশ্বনাথ মণ্ডল। ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিকেলে গ্রামে অচেনা লোক দেখে ছেলেধরা গুজব ছড়ায়। গাড়ি ঘিরে ফেলে গ্রামবাসীরা। চলতে থাকে মারধর। চারচাকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
খবর পেয়ে বলাগড় থানার পুলিশ গ্রামে পৌঁছলে পুলিশকেও আক্রমণ করা হয়। এগারোজন পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার আহত হন। তীরবিদ্ধ হন সিভিক ভলান্টিয়ার অখিলবন্ধু ঘোষ। আহতদের উদ্ধার করে বলাগড় ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর আহতদের কল্যাণী হাসপাতাল এবং এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলে।
এই ঘটনার পর বলাগড় থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। অফিসার অলোককুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তদন্তকারী অফিসার। ২০১৭ সালেরই ৯ জুন ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। তার মধ্যে ৫ জন মহিলা। ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল চার্জ গঠন হয়। গ্রামবাসী, চিকিৎসক, পুলিশ, আক্রান্ত-সহ মোট ২৭ জন সাক্ষ্য দেন।
বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্য়াক কোর্টের বিচারক পীযূষকান্তি রায় অভিযুক্ত ২৫ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেন।
এই মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন জয়ন্ত সাহা। তাঁকে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গাঙ্গুলি বলেন, "একটা যুগান্তকারী মামলা। সেই সময় ছেলেধরা গুজবে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছিল। আসানপুরেও সেই গুজবে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের দুই মহিলাকে মারধর করে গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দৃষ্টান্ত মূলক রায় হতে চলেছে আগামীকাল।"
যে যে ধারায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে। একটি মামলায় একসঙ্গে ২৫ জন দোষী সাব্যস্ত স্মরণকালের মধ্যে হয়নি বলে জানান শঙ্কর গাঙ্গুলি।