অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রায় স্বামীজির প্রতিকৃতি বহন করা হয় এবং পথে পথে উচ্চারিত হয় তাঁর বাণী। ভক্তিমূলক সংগীতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বহু সাধারণ মানুষ ও যাত্রী কিছুক্ষণ থেমে এই বিশেষ আয়োজনের সাক্ষী থাকেন।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda ) কলকাতা প্রত্যাবর্তন দিবসের ১২৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনে আয়োজিত হল বিশেষ অনুষ্ঠান। ১৮৯৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পাশ্চাত্যে ভারতীয় দর্শনের জয়ধ্বনি তুলে দেশে ফিরেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এদিন সকাল থেকে স্টেশন চত্বরে তৈরি হয় আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বেলুড় মঠের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আদ্যাপীঠ মন্দিরের প্রেসিডেন্ট ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৮৮ সাল থেকে স্বামীজির কলকাতা প্রত্যাবর্তন দিবস বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে এবং প্রতি বছরই এই দিনটি ঘিরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বামী বিবেকানন্দের মানবধর্ম, আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় চেতনার বার্তা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু একজন সন্ন্যাসীর দেশে ফেরা ছিল না, বরং তা ছিল ভারতবাসীর আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের নবজাগরণের সূচনা। যুবসমাজের উদ্দেশে তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বানও জানানো হয়। এদিন রামকৃষ্ণ মিশনের বিভিন্ন শাখা থেকে বহু ছাত্র-ছাত্রী ও পড়ুয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। বক্তৃতা, স্বামীজির বাণী পাঠ, ভক্তিমূলক সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানে মুখর হয়ে ওঠে স্টেশন প্রাঙ্গণ। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রায় স্বামীজির প্রতিকৃতি বহন করা হয় এবং পথে পথে উচ্চারিত হয় তাঁর বাণী। ভক্তিমূলক সংগীতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বহু সাধারণ মানুষ ও যাত্রী কিছুক্ষণ থেমে এই বিশেষ আয়োজনের সাক্ষী থাকেন।
পুষ্পার্ঘ্যের মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আয়োজকদের মতে, ১৯ ফেব্রুয়ারিকে কলকাতার ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বামীজির আদর্শ পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্বামী বিবেকানন্দের চিরন্তন আহ্বান, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত নিরন্তর এগিয়ে চলা, আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করছেন উপস্থিত বক্তা ও আয়োজকেরা।