বিবেকানন্দ নামের প্রতিটি অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে গভীর দর্শন, এমনই ব্যাখ্যায় স্বামীজিকে নতুন করে চেনালেন প্রবীণ সন্ন্যাসী জ্ঞানলোকানন্দ মহারাজ।

স্বামী বিবেকানন্দ
শেষ আপডেট: 21 January 2026 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমাজ দ্রুত বদলাচ্ছে। এআই এর যুগে কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে ধরা খুবই চাপের। অনেকে বলেন, তার চেয়েও কঠিন মানুষের মানসিকতা বোঝা। কেন কেউ সত্যি বা মিথ্যে বলছে, সেটা ঠাওর করা। যে পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে স্বামীজি সত্য, ন্যায় বা দৃঢ়তার কথা বলেছেন, সে পৃথিবী আজ আর নেই! সে মানসিকতাই বা কোথায়। এই পরিবর্তনশীল পৃথিবীতেই স্বামীজির বাণী সকলের চেতনা ফেরাতে পারে, জীবনের এক অন্য দিক খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্বামী বিবেকানন্দ অ্যানসেট্রাল হাউজ অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ। এই ভাবনা বা চিন্তাশক্তির শুরু স্বামীজির নাম থেকেই।
বিবেকানন্দ বা বিবেক, ইংরেজিতে উচ্চারণ করলে ভিভেক (VIVEK), এই পাঁচ অক্ষরেই অনেক কিছু বলা আছে। তাঁর নরেন্দ্রনাথ থেকে বিবেকানন্দ হওয়াও বোধহয় সেকারণেই। বিবেকের আক্ষরিক অর্থ বিরাট। প্রতিটি অক্ষর একেকটি দিক বা ধারণা তুলে ধরে।
স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ মনে করেন, এই পাঁচ অক্ষর যা বার্তা দেয়, তা যদি এযুগে আমরা সামান্যও নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করি, মিরাকল হবে। বদলে যাবে দেখার চোখ।
এমন কী আছে ভিভেক শব্দে?
তিনি জানান, ভি ফর ভেলোর, শৌর্যবীর্য, আই ফর ইন্টিগ্রিটি অর্থাৎ সংহতি। পরের ভি হল ভেদান্ত, বাংলায় বেদান্ত। ই ফর এনথুসিয়্যাসম অর্থাৎ উৎসাহ আর কে ফর নলেজ বাংলায় বললে হবে জ্ঞান। এগুলোকে একটু যদি ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে স্বামীজির জীবনে এই প্রত্যেকটি গুণ উদ্ভাসিত হয়েছিল। আর সহজভাবে বাঁচার জন্য এই প্রত্যেকটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে জীবনে।
স্বামীজি চেয়েছিলেন আমাদের দেশের তরুণদের পেশি হবে লোহার মতো, স্নায়ু হবে ইস্পাতের মতো, ভিতরে বজ্রের ন্যায় মন থাকবে। তাঁরা আদর্শের পথে চলবে আর সেই আদর্শের পথে চলতে গিয়ে যদি গভীর সমুদ্রে মৃত্যুর সম্মুখীনও হতে হয় তাহলেও পিছপা হবে না। স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ বলেন, 'এমনই তরুণ সমাজ স্বামীজি চেয়েছিলেন।'
বর্তমান সমাজে যেখানে চারিদিকে হানাহানি, খুন, মারপিট, কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছে না। তখন সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার বার্তা বড়ই গুরুত্বপূর্ণ। ওই যে বইতে ছোটবেলায় আমরা সকলেই ইউনিটি ইস স্ট্রেন্থ পড়েছি। স্বামীজিও বলেছিলেন, একসঙ্গে থাকলে ভয় থাকে না মনে। যে ব্যক্তির কোনও গুণ নেই, তাকে সমাজ একঘরে করে রাখে, কম পছন্দ করে কিন্তু তারও সমাজে নির্দিষ্ট কাজ আছে, গুরুত্ব আছে, প্রয়োজন আছে। কেবল মেধাবীদের প্রশংসা করা হবে, বাকিদের অবহেলা, এমন হতে পারে না। প্রত্যেককে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সংহতি যেখানে শক্তি সেখানে।
হাজার সমস্যাতেও সাফল্য মিলবে কীভাবে?
স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ বলেন, 'স্বামীজি মনে করতেন পরস্পরে মিলেমিশে চলতে হবে। সকলে মিলিত হওয়া যে কোনও কিছুর 'শুরু', একসঙ্গে এগিয়ে চলা 'অগ্রগতি' আর মিলিত হয়ে কাজ শেষ করা 'সাফল্য'। এভাবে কাজ করলে সাফল্য পাওয়া যাবে।'
সকলে সমান
ভিভেক-এ থাকা 'বেদান্ত' বলে সকলে আমরা একই শক্তি থেকে এসেছি, একই শক্তিতে গিয়ে মিলিত হব। তাই সকলে এক। জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ইশ্বর। আর আমরা উৎসাহের সঙ্গে যেকোনও কিছু লাভ করতে পারি।
তাই স্বামী জ্ঞানলোকানন্দর কথায়, 'বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকালে বোঝা যাবে যারা শিক্ষিত তারাই বেশি ক্ষতি করছে। শিক্ষিত অর্থাৎ সাক্ষর, বহুবচন করলে হবে সাক্ষরা আর উল্টো করলে হবে রাক্ষসা। স্বামীজি বলেছেন, সরস হতে হবে, সরসকে উল্টো করলে সরসই হবে। সরস অর্থাৎ ডিগ্রি লাভ করে রাক্ষস হওয়া নয়, প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা। তাহলেই জগতের কল্যাণ সম্ভব। মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।'