গবেষকদলের আশা, এই জেনেটিক প্রোফাইল জানা গেলে ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসা তৈরি করা যাবে, যা সাফল্যের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 August 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারবার ভুলে যাওয়া, সদ্য করে ফেলা কোনও কাজের কথাও মনে রাখতে না পারা, ভীষণ বইপোকা লোকেরও পড়তে ভুলে যাওয়া এইসব লক্ষণ নিয়ে অনেকদিন ধরেই সচেতনতা চলছে বিশ্বজুড়ে। সমীক্ষা বলছে, ডিমেনশিয়ার উপসর্গযুক্ত প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই অ্যালজাইমার্স রোগের (Alzheimer’s disease) শিকার। দুর্ভাগ্যের বিষয়, সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে পারবে – এমন কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি এখনও অধরা চিকিৎসক-গবেষকদের কাছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণা (Alzheimer’s research) বলছে, অ্যালজাইমার্স রোগীদের ব্রেনে থাকা ইমিউন সেল (immune cells in brain) সুস্থ মানুষের ব্রেনের তুলনায় একেবারেই অন্যভাবে কাজ করে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে অ্যালজাইমার্সের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাফল্যের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
মস্তিষ্কের প্রহরী কোষ ‘মাইক্রোগ্লিয়া’
২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যালজাইমার্স রোগীদের ব্রেনে থাকা মাইক্রোগ্লিয়া নামের বিশেষ ধরনের ইমিউন সেল অনেক বেশি সংখ্যায় ‘প্রি-ইনফ্ল্যামেটরি’ অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ, তারা প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালনের বদলে ব্রেনে ইনফ্লেমেশন বাড়ায়।
স্বাভাবিক অবস্থায় এই কোষগুলো ব্রেনকে সুস্থ রাখে – জমতে থাকা বর্জ্য সরায়, মৃত কোষ পরিষ্কার করে এবং স্নায়ুকোষের সংযোগ (synapse) গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সংক্রমণ হলে বা মৃত কোষ সরাতে হলে এরা নিজেদের আকার পাল্টে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু অ্যালজাইমার্স আক্রান্তদের ক্ষেত্রে, মাইক্রোগ্লিয়ার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া প্রদাহ ডেকে আনে এবং ব্রেনের কোষ ধ্বংসে ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন পরীক্ষায় পাওয়া গেল অজানা তিন ক্লাস্টার
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্টিস্ট ক্যাথরিন প্র্যাটার ও কেভিন গ্রিনের নেতৃত্বে গবেষকরা অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত ১২ জন ও সুস্থ ১০ জনের মৃত্যুর পর সংগৃহীত ব্রেনের টিস্যু পরীক্ষা করেন। উন্নত সিঙ্গল-নিউক্লিয়াস আরএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁরা মাইক্রোগ্লিয়ার ১০টি আলাদা ক্লাস্টার চিহ্নিত করেন, যার মধ্যে ৩টি আগে কখনও ধরা পড়েনি।
গবেষণায় দেখা যায়, নতুন যে ক্লাস্টারটি আবিষ্কৃত হয়েছে, তা অ্যালজাইমার্স রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই ধরনের মাইক্রোগ্লিয়ায় প্রদাহ ও কোষমৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত জিন সক্রিয় হয়ে থাকে।
ফলাফল বলছে, অ্যালজাইমার্স রোগীদের মস্তিষ্কে মাইক্রোগ্লিয়া সাধারণত প্রদাহ-সৃষ্টিকারী অণু তৈরি করে, যা মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং রোগের অগ্রগতির সময় আর এগিয়ে আনতে পারে। অন্যদিকে, সুরক্ষামূলক বা পরিষ্কারকাজে যুক্ত মাইক্রোগ্লিয়া অনেক কম সক্রিয় থাকে।
এখনও উত্তর মেলেনি অনেক প্রশ্নের
তবে গবেষকরা বলছেন, সব উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। প্র্যাটারের কথায়, “এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না মাইক্রোগ্লিয়াই কি রোগ সৃষ্টি করছে, নাকি রোগের কারণে মাইক্রোগ্লিয়ার আচরণ পাল্টাচ্ছে!”
তবে তাঁদের বিশ্বাস, কোন ধরনের মাইক্রোগ্লিয়া কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে, সেটা বোঝা গেলে অ্যালজাইমার্স প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।
চিকিৎসার নতুন আশা
গবেষণাপত্রটি Nature Aging জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদলের আশা, এই জেনেটিক প্রোফাইল জানা গেলে ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসা তৈরি করা যাবে, যা মাইক্রোগ্লিয়ার ক্ষতিকর আচরণ বদলে দিতে পারবে এবং হয়তো রোগ প্রতিরোধ বা গতি ধীর করতে সাহায্য করবে।