এখন সামনে একটাই প্রশ্ন: হার থেকে শিক্ষা মিলবে? নাকি আবার একই ভুলে ফের লেখা হবে শোকগাথা?

ভারতীয় হকি টিম
শেষ আপডেট: 8 December 2025 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিভা আমাদের কম নয়। গতি, স্কিল, পাসিং—সবই আছে। কিন্তু আধুনিক হকিতে শুধু এগুলো দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। আরও জরুরি—মাঠে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, ফ্লেক্সিবিলিটি, আর প্রতিপক্ষকে ‘পড়তে’ পারার বুদ্ধি। জার্মানির (Germany) বিরুদ্ধে ১-৫ ব্যবধানে ভরাডুবি তাই কোনও দুর্ঘটনা নয়— কৌশল আর প্রস্তুতিগত ফারাকের নির্মম প্রদর্শন।
গ্রুপ-পর্বের সহজ ম্যাচ, বেলজিয়ামের (Belgium) বিরুদ্ধে টানটান কোয়ার্টার ফাইনাল—এ সবই ভারতকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিন্তু সেমিফাইনালেই দেখা গেল আসল ছিদ্র। জার্মানি ঠিক আগের ১৩টি জুনিয়র বিশ্বকাপে যেমন পারফর্ম করেছে, আবারও করে দেখাল গতকাল—মুহূর্তে ম্যাচ পড়ে নিল আর ভারতকে ঠেলে দিল নিজেদের অর্ধে। জার্মানির হাই-প্রেসে প্রতিপক্ষ আক্রমণ, মাঝমাঠ একেবারে ম্যাচের শুরুতেই গেল গুটিয়ে। ১৪, ১৫, ৩০, ৪০, ৪৯—এই পাঁচ মিনিট আসলে পাঁচখানা আঘাতের দাগ! এক-এক করে মিডফিল্ডে হাফ-টার্ন নিয়ে দুই পাসে ডিফেন্স ছিঁড়ে ফেলা—জার্মান মেশিনের পরিচয়। অন্যদিকে ভারতীয় দল পিছিয়ে গিয়ে ম্যাচের গতি মন্থর করার বদলে আরও তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বাঞ্চিং শুরু করল। যার অবধারিত ফল—প্রতিটা টার্নওভারেই জার্মানির কাউন্টার অ্যাটাকে সার্কেল ফাঁকা।
ঠিক এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ১৯৯৭ জুনিয়র বিশ্বকাপেও। তখন রাজেশ চৌহান (Rajesh Chauhan) কোচ ভাস্করনের (V. Bhaskaran) কাছে যান। গিয়ে জানান, তাঁকে সেন্টার-হাফে খানিক এগিয়ে খেলানো হোক। অনুমতি মেলে। ভারত মিডফিল্ড দখল নেয়। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে এবং চৌহানরা লড়াই জিতে নেয় ৩-২ স্কোরলাইনে। মেঘলা আকাশের মতোই বদলে যাওয়া ম্যাচের রং আজ দেখাল—শুধু কোচ নয়, খেলোয়াড়ের মস্তিষ্ক-ব্যবহারও কতটা জরুরি।
আজকাল ভারতীয় দল ম্যানেজার–ড্রিভেন। যেখানে পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়ের স্বতঃস্ফূর্ত বদল করার জায়গা সীমিত। গতকাল মিডফিল্ডের ভুল, ডিফেন্সের অগোছালো দশা, আর ট্রানজিশনের মন্থরতা—সব মিলিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দিল। অন্যদিকে জার্মানির কোচ ম্যানুয়াল মেনে ফ্ল্যাঙ্ক বদল, ডিফেন্স আলাদা করে চাপ তৈরি আর সার্কেলের সামনে-বাড়তি লোক তুললেন।
লড়াই হেরে কোচ শ্রীজেশের (PR Sreejesh) হতাশা স্পষ্ট। সরাসরি বললেন—‘সহজ ভুল করলে ওরা গোল দেবেই। মিডল ব্লক খোলা রেখেছিলাম, জার্মানি বারবার ঢুকেছে!’ যদিও ভারতীয় দলের আরও বড় সমস্যা—সেল্ফ-ডাউট। চাপ বাড়লে তরুণ খেলোয়াড়রা আরও স্নায়ুচাপে ভুল করেছে। প্রয়োজন ছিল স্থিরতা, ধৈর্য, আর পজিশন ধরে খেলা। একটাও সময়মতো হয়নি।
এবার লড়াই আর্জেন্তিনার (Argentina) বিরুদ্ধে। ব্রোঞ্জ জিতলে শুধু পুরস্কার নয়—ফিরবে মনোবল। বার্তা যাবে—ভারত ভুল থেকে শিখছে। কারণ জার্মানি যা দেখাল, তা প্রতিভার পরাজয় নয়—প্রস্তুতি, বুদ্ধি, সংগঠনের জয়। পরের ধাপে উঠতে গেলে ভারতীয় বাহিনীকেও এই তিন দিকে উন্নতি আনা জরুরি। এখন সামনে একটাই প্রশ্ন: হার থেকে শিক্ষা মিলবে? নাকি আবার একই ভুলে ফের লেখা হবে শোকগাথা?