যে সময় ক্রিকেটের ব্যাট-বল ছুঁয়েছে রাজনীতি, সেই সময় হকির ঘাসের মাঠে ফুটে উঠল ক্রীড়ার মানবিক দিক—যেখানে হ্যান্ডশেক মানে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক প্রতিশ্রুতি: প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়।

গতকাল করমর্দনের দৃশ্য
শেষ আপডেট: 15 October 2025 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) মঞ্চে মুখ ফিরিয়েছিল ক্রিকেট। মাঠে উত্তাপ, মাঠের বাইরে কূটনীতি—দু’দলের খেলোয়াড়রা হাত মেলাননি। সেই বিতর্কের পর এবার হকির (Hockey) টার্ফে দেখা গেল এক উল্টো ছবি। মালয়েশিয়ার (Malaysia) জহর বারুতে (Johor Bahru) অনুষ্ঠিত সুলতান অব জহর কাপের (Sultan of Johor Cup) ময়দানে ভারত (India) ও পাকিস্তানের (Pakistan) তরুণ হকি খেলোয়াড়রা ম্যাচের আগে হাই ফাইভ, ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক করে বুঝিয়ে দিলেন—খেলাধুলো এখনও সংযোগের ভাষা!
ভারতীয় ও পাকিস্তানি সিনিয়র ক্রিকেট দলের এশিয়া কাপ ও মেয়েদের ওডিআই বিশ্বকাপে (ODI World Cup 2025) হাত না মেলানো নিয়েই কূটনৈতিক ঝড় বয়ে গিয়েছিল। অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর দুই দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মাঠেও তার ছায়া পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে হকি ম্যাচটিকে ঘিরে ছিল অন্যরকম উত্তেজনা। অনেকে ধরে নেন—এবারও ‘নো হ্যান্ডশেক’ কূটনীতি দেখা যাবে।
কিন্তু ছবিটা পালটে গেল মঙ্গলবার। জহর বারুর ময়দানে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেন। আর ভারতের তরুণরা এগিয়ে এসে একে একে প্রত্যেককে দিলেন হাই ফাইভ। আনুষ্ঠানিক হ্যান্ডশেক না হলেও, স্পষ্ট বার্তা—শত্রুতা নয়, সৌহার্দ্যই আসল কথা!
পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (PHF) আগে থেকেই খেলোয়াড়দের সতর্ক করে, ভারত হয়তো হাত না মেলাতে পারে। তাই মানসিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল, ‘যদি ভারতীয়রা হাত না বাড়ায়, তাতে প্রতিক্রিয়া দেখিও না!’ কিন্তু ম্যাচের আগেই চিত্রনাট্য বদলে যায়। ভারতীয় দল হাই ফাইভে শুরু করে কূটনৈতিক বরফ গলানোর চেষ্টা। ম্যাচ শেষে, ৩–৩ রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ের (India vs Pakistan 3–3 Draw) পর দেখা যায় আরও বড় ছবি—এবার পাকাপাকি হ্যান্ডশেক! অর্থাৎ, ক্রিকেটের কূটনীতি যেখানে দেয়াল তুলেছিল, হকির ছেলেরা সেটা ভেঙে সেতু গড়ল।
ম্যাচও আগাগোড়া টানটান। পাকিস্তান শুরুতেই এগিয়ে যায়—পেনাল্টি থেকে পঞ্চম মিনিটে গোল হানান শাহিদের (Hannan Shahid)। ব্যবধান বাড়ান সুফিয়ান খান (Sufyan Khan)। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রনাট্য ঘুরিয়ে দেয় ভারত। আরিজিৎ সিং হুন্দালের (Araijeet Singh Hundal) গোল, তারপর সৌরভ আনন্দ কুশওহার (Sourabh Anand Kushwaha) সমতা ফেরানো আর মনমিৎ সিংয়ের (Manmeet Singh) ৫৩ মিনিটে দুরন্ত ফিল্ড গোল—সব মিলিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে শেষ দিকে সুফিয়ান ফের গোল করে ম্যাচ বাঁচান, ফলাফল ৩–৩।
ভারতীয় দলের মেন্টর কিংবদন্তি গোলকিপার পি আর শ্রীজেশ (PR Sreejesh)। তাঁর নেতৃত্বেই ভারতের তরুণরা ইতিমধ্যেই হারিয়েছে গ্রেট ব্রিটেন (Great Britain) ও নিউজিল্যান্ডকে (New Zealand)। পাকিস্তানও প্রথম ম্যাচে ৭–১ গোলে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে দুরন্ত শুরু করেছিল। তাই মঙ্গলবারের ড্রয়ের পরও তিক্ততা নয়, উত্তেজনা অটুট থাকল।
যে সময় ক্রিকেটের ব্যাট-বল ছুঁয়েছে রাজনীতি, সেই সময় হকির ঘাসের মাঠে ফুটে উঠল ক্রীড়ার মানবিক দিক—যেখানে হ্যান্ডশেক মানে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক প্রতিশ্রুতি: প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়।