আদরের ডাকনাম পেলে আমরা ছাপোষারা বর্তে যাই। সেলেব্রিটিরা তাকেই ট্রেডমার্ক করে রাখেন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 2 July 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদরের ডাকনাম পেলে আমরা ছাপোষারা বর্তে যাই। সেলেব্রিটিরা তাকেই ট্রেডমার্ক করে রাখেন।
যেমন রেখেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কেউ ডাকে ‘মাহি’ বলে, কেউ ‘এমএসডি’। আন্তরিক গুণগ্রাহী যাঁরা, তাঁরা দুর্দমনীয় চাপের মুহূর্তেও মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার বিরল গুণ-কে কদর জানিয়ে অভিধা জুড়ে দেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। লেখালিখি থেকে শুরু করে দোকানের নাম—যত্রতত্র দেদারে ‘ক্যাপ্টেন কুলে’র নামাঙ্কন কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু এই ট্র্যাডিশনে এবার ছেদ টানতে চলেছেন নামের মালিক মহেন্দ্র সিং ধোনি। সমর্থক ও অনুরাগীদের দেওয়া উপাধির ট্রেডমার্ক চেয়ে আবেদন করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক! ট্রেডমার্কস রেজিস্ট্রি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ধোনির জমা করা আর্জি এই মুহূর্তে ‘গৃহীত ও পর্যালোচিত’ হচ্ছে। যদিও তা আদৌ ‘অনুমোদন’ পেয়েছে বা আগামীতে পাবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
যদিও শুধু ধোনি নন। ক্রীড়াজগতের অনেক কিংবদন্তিই কেউ নিজেদের উচ্ছ্বাসের ধরন, কেউ সমর্থকদের স্লোগান… কেউ কেউ তো বাকবিতণ্ডার মুহূর্তে বলা উবাচকেও ট্রেডমার্কের শিকলে বেঁধেছেন!
১. তালিকায় প্রথমেই যাঁর নাম আসবে, তিনি জন ম্যাকেনরো। ১৯৮১ সালের উইম্বলডনের একটি ম্যাচে আম্পায়ারের কল শুনে মেজাজ বিগড়ে যায় প্রাক্তন টেনিস খেলোয়াড়ের। চোখে চোখ রেখে তাঁকে শুনিয়ে দেন: ‘ইউ ক্যাননট বি সিরিয়াস!’ (তুমি কি সত্যি এটা বলছ?)। এই উক্তি পরে লোকপ্রসিদ্ধি পায়। জনে জনে মুখে মুখে ঘুরতে থাকে। অবসরের পর দেরি না করে আমেরিকার পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিসে আবেদন করে এই খেদোক্তিকেই সরকারিভাবে নিজের জিম্মায় রাখার ব্যবস্থা নেন ম্যাকেনরো।
২. রোনাল্ডোও পিছিয়ে নেই। নিজের নাম-পদবির আদ্যক্ষর ও জার্সি নম্বরকে জুড়ে ‘সিআরসেভেন’ (CR7) এখন রীতিমতো ব্রান্ড। তদুপরি ট্রেডমার্কডও বটে। সুগন্ধি, জামাকাপড়, জুতোমোজা থেকে শুরু করে চশমাপাতি—সবকিছু চড়া দামে বিক্রি হয়।
৩. পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় কোবে ব্রায়ান্ট। ২০২০ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান। মৃত্যুর পর কোবের ‘ফ্লাইট ২৪’ (Flight 24) ট্রেডমার্ক দাখিল হয়। যার আওতায় গয়নাগাটি থেকে শুরু করে ঘড়ি সব রয়েছে। চলতি বছরও নিউ ইয়র্কে প্রয়াত খেলোয়াড়ের আইকনিক জার্সি নিলামে ওঠে। এক অনুরাগী তা কিনেছিলেন ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি টাকায়!
৪. লিব্রন জেমস: ইনিও বাস্কেটবলের লোক। ‘জাস্ট আ কিড ফ্রম অ্যাক্রন’ এবং ‘কিং জেমস’ নামে দুটি শব্দবন্ধ ট্রেডমার্ক করানো। ব্র্যান্ডের জিনিসপত্রে তা উৎকীর্ণ থাকে।
৫. উসেইন বোল্ট: অলিম্পিকে জিতেছেন একের পর এক মেডেল। ভেঙেছেন গুচ্ছের রেকর্ড। আর ফিনিশিং লাইন পেরনো মাত্র দুই হাত বিশেষ ভঙ্গিতে নিশানা করে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন। এই বিশেষ মুদ্রাটি কিন্তু ট্রেডমার্কড! বাণিজ্যিক প্রয়োজনে একমাত্র বোল্টই ব্যবহার করতে পারেন, অন্য কেউ নয়।
৬. এরিক ক্যান্টোনা: ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মহাতারকা। অসম্ভব গ্ল্যামারাস, স্কিলফুল ফুটবলার। অ্যালেক্স ফার্গুসনের অন্যতম সেনানী। কিঞ্চিৎ বদমেজাজি হিসেবে দুর্নাম কুড়োলেও ‘রেড ডেভিল’ সমর্থকদের নয়নের মণি, ম্যান ইউয়ের কিংবদন্তিও বটে! তিনি মাঠে নামলেই ‘উহ আহ ক্যান্টনা’ (Oooh Aah Cantona) কেঁপে উঠত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারি। এই সম্ভাষণকে ট্রেডমার্ক করে রেখেছেন ফরাসি স্ট্রাইকার।