২০২৬-এর বাজেটে দেশজুড়ে খেলাধুলোর পরিকাঠামোকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে নতুন ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’-এর প্রস্তাব আনা হয়েছে। তৃণমূল স্তর থেকে আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি- সর্বস্তরের খেলোয়াড়ের উন্নতিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

নির্মলা সীতারমন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের খেলাধুলোর পরিকাঠামোকে আগামী এক দশকে আমূল বদলে দিতে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্র। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) জানালেন, খেলো ইন্ডিয়া (Khelo India) কর্মসূচির উপর ভর করে চালু করা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’। লক্ষ্য একটাই—শুধু প্রতিভা খোঁজা নয়, গোটা ক্রীড়া-ব্যবস্থাটাকেই কাঠামোগতভাবে পোক্ত, মজবুত করে তোলা।
কেন নতুন খেলো ইন্ডিয়া মিশন?
লোকসভায় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, খেলাধুলা শুধু পদকজয়ের ক্ষেত্র নয়, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বড় মাধ্যমও বটে। তাঁর কথায়, ‘খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে যে প্রতিভা লালনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী দশকে ক্রীড়া ক্ষেত্রের রূপান্তরের জন্য খেলো ইন্ডিয়া মিশন চালু করার প্রস্তাব দিচ্ছি।’
২০১৭ সালে শুরু হওয়া ‘খেলো ইন্ডিয়া’ মূলত বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিভা চিহ্নিত করার উপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে—প্রতিভা খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়। তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স ও পরিকাঠামোগত সহায়তা না জোগালে আন্তর্জাতিক সাফল্য ধারাবাহিক হয় না।
কী কী থাকছে মিশনের মূল কাঠামোয়?
প্রস্তাবিত খেলো ইন্ডিয়া মিশনের বড় বৈশিষ্ট্য হল একটি সমন্বিত ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও এলিট—এই তিন স্তরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা, স্পোর্টস সায়েন্স ও প্রযুক্তিকে প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা এবং দেশজুড়ে নিয়মিত লিগ ও প্রতিযোগিতা আয়োজন—সবই এই মিশনের অঙ্গ।
আরেকটি বড় স্তম্ভ পরিকাঠামো উন্নয়ন। কেন্দ্রের স্বীকারোক্তি, মেট্রো শহরের বাইরে মানসম্মত স্টেডিয়াম ও ট্রেনিং সুবিধার অভাব ভারতের ক্রীড়া-স্বপ্নের বড় বাধা। নতুন মিশনে সেই ঘাটতি মেটানোর উপর জোর দেওয়া হবে।
খেলাধুলা ও অর্থনীতি—দুটোকেই জুড়তে চায় সরকার
বাজেটে শুধু মাঠের কথা নয়, খেলাধুলাকে অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম হিসেবেও দেখছে কেন্দ্র। নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনের জন্য আলাদা একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে। লক্ষ্য—ভারতকে উচ্চমানের ও সাশ্রয়ী খেলাধুলোর কাঁচামালের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
তাঁর কথায়, ‘স্পোর্টস গুডসের জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা উৎপাদন, গবেষণা এবং যন্ত্রাংশ ও উপকরণ বিজ্ঞানে উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেবে।’এতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে খেলাধুলার সংযোগ আরও মজবুত হবে।
বড় স্বপ্নের প্রেক্ষাপটে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা?
এই ঘোষণার সময়কাল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ক্রীড়া মন্ত্রকের গঠিত টাস্ক ফোর্স, যার নেতৃত্বে ছিলেন পুল্লেলা গোপীচাঁদ (Pullela Gopichand), কোচ তৈরির উপর বিশেষ জোর দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অলিম্পিক স্তরের কোচদের জন্য অ্যাথলিটদের মতোই আর্থিক ও পেশাগত সহায়তার প্রস্তাবও উঠে এসেছে।
পাশাপাশি ভারত আগামী দিনে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের জন্য বিড-ও জমা দিয়েছে। এই সব বড় মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি পাইপলাইন দরকার, খেলো ইন্ডিয়া মিশনকে সেদিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।