বাজেট ২০২৬–এ মদের দাম বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এক্সাইজ শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে কীভাবে বাড়বে খরচ, স্পষ্ট ছবি মিলেল বাজেট বক্তৃতায়।

নির্মলা সীতারমন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজেট রোজকার চাহিদা–সরকারি কাঠামোর টানাপোড়েনের মাঝেই স্বস্তির হাওয়া আনল কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) শুক্রবার পেশ করলেন ২০২৬–২৭ আর্থিকবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026-27)। সেখানেই ট্যাক্স কাঠামোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা— একদিকে অ্যালকোহলিক লিকার (Alcoholic Liquor), স্ক্র্যাপ (Scrap) এবং খনিজ (Minerals) বিক্রেতাদের জন্য ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স বা টিসিএস (TCS) সরলীকরণ, অন্যদিকে তামাকজাত দ্রব্যে (Tobacco Products) এনসিসিডি (NCCD) কাঠামো বদল। দুই ক্ষেত্রেই বড়সড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হলেও কার্যক্ষেত্রে ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে না বলে আশ্বাস দিলেন অর্থমন্ত্রী।
অ্যালকোহল, স্ক্র্যাপ ও খনিজে ফ্ল্যাট ২% টিসিএস
বাজেট ভাষণে সীতারমন জানান, অ্যালকোহলিক লিকার, স্ক্র্যাপ এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ বিক্রির ক্ষেত্রে টিসিএস হার এবার থেকে একেবারে ফ্ল্যাট ২ শতাংশ। এর আগে এই খাতে টিসিএসের হার আলাদা আলাদা ছিল— কোথাও বেশি, কোথাও কম। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল এই ভিন্ন হার গোটা ট্যাক্স প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
ফলে বাজেটে কেন্দ্র জানাল— তিন খাতের জন্য একটাই হার, ২ শতাংশ। প্রক্রিয়া হবে সহজ, স্বচ্ছ এবং একরকম। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ব্যবসায়ীদের আর্থিক ভার কমাবে। বিশেষ করে স্ক্র্যাপ ও মিনারেল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বারবার রেট পরিবর্তন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হত, তা কাটবে। সরকারের তরফে আশা— সরল কাঠামো ট্যাক্সসংগ্রহকেও আরও দক্ষ এবং ব্যবসাবান্ধব (Business-Friendly) করে তুলবে।
তামাকজাত দ্রব্যে এনসিসিডি বাড়ল— তবু কার্যকর করের বোঝা বাড়ল না
বাজেটের দ্বিতীয় বড় ঘোষণা তামাক খাতে। নির্মলা সীতারমন বলেন, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ন্যাশনাল ক্যালামিটি কন্টিনজেন্ট ডিউটি বা এনসিসিডি (NCCD) বহুলাংশে সংশোধন করা হচ্ছে। যেখানে এতদিন এনসিসিডি ছিল ২৫ শতাংশ, তা কাগজে-কলমে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হবে।
তবে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— এই বৃদ্ধি কার্যত কার্যকর করের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। কারণ এনসিসিডি বাড়ানো হলেও একসঙ্গে অন্যান্য এক্সাইজ উপাদান (Excise Components) কমিয়ে দেওয়া হবে। ফলে প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী বা ভোক্তার কারও ক্ষেত্রেই দামে বাড়তি চাপ পড়বে না।
অর্থমন্ত্রকের ভাষায়, ‘এটা পুরোপুরি টেকনিক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্ট। ট্যাক্স কাঠামো সামলাতে সরকারের হাতে কিছুটা ফ্লেক্সিবিলিটি রাখতে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।’
এই বদল প্রযোজ্য হবে চিউইং টোব্যাকো (Chewing Tobacco), জর্দা সুগন্ধি তামাক (Jarda Scented Tobacco) এবং অন্যান্য একই ধরনের তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞেরা জানান, আন্তর্জাতিক কর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এমন পরিবর্তন মাঝে মাঝেই করা হয়। উদ্দেশ্য— প্রশাসনিক সুবিধা, কিন্তু বাজারদরে কোনও প্রভাব না ফেলা।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তির বার্তা
বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শিল্পমহল জানাচ্ছে, সরকারের এই দুই সিদ্ধান্তেই ব্যবসায় অধিক স্বচ্ছতা আসবে। বিশেষ করে টিসিএস সরলীকরণে খুশি ট্যাক্স কনসালট্যান্টরা। তাঁদের মতে, ‘বহুদিন ধরেই এই খাতগুলিতে জটিলতা ছিল। এবার থেকে অ্যাকাউন্টিং সহজ হবে, পাশাপাশি ট্যাক্স কমপ্লায়েন্সও অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।’
অন্যদিকে তামাক শিল্প বলছে, ‘ট্যাক্স হারের কাগুজে পরিবর্তন থাকলেও দাম না বাড়ায় বাজারে কোনও অস্থিরতা তৈরি হবে না।’
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬–২৭-এর এই দু’টি পদক্ষেপ শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশকে আরও কিছুটা স্বচ্ছ, সরল এবং স্থিতিশীল করার দিকে সরকারের অঙ্গীকারই তুলে ধরল।