রবিবার লোকসভায় তৃতীয় মোদী মন্ত্রিসভার ত্রয়োদশতম বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 14:13
মমতার দাবি, এই বাজেট জনবিরোধী এবং সম্পূর্ণ দিশাহীন। তাঁর কথায়, “এটা গরিববিরোধী, কৃষকবিরোধী, মহিলা-বিরোধী বাজেট। শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা—কোনও ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাস্তব কোনও দিশা নেই।” কেন্দ্র শুধু ঘোষণার ফুলঝুড়ি ছড়ালেও বাস্তবে মানুষের জীবনে তার কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
বাজেটে প্রস্তাবিত ফ্রেট করিডর নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, ডানকুনি থেকে ফ্রেট করিডরের কথা নতুন করে বলা হলেও বিষয়টি মোটেই নতুন নয়। “২০০৯ সালে আমার রেল বাজেটেই ডানকুনি ফ্রেট করিডরের উল্লেখ ছিল। ওরা ১৫ বছর ধরে সেই কাজ আটকে রেখেছিল,” বলেন তিনি। পাশাপাশি জানান, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই ইতিমধ্যে ডানকুনি থেকে ছ’টি অর্থনৈতিক করিডর তৈরির কাজ করছে।
জিএসটি প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “জিএসটির নামে বাংলা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে, অথচ এক পয়সাও দেয় না। উল্টে শুধু মিথ্যে কথা বলে বেড়ায়।”
একই সঙ্গে কমিশন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার দাবি, “একদিকে বঞ্চনা, অন্যদিকে এজেন্সি আর কমিশন লাগিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিকভাবে আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে এর জবাব দেব।”
চলতি বছরই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। সেই কারণে বাজেটে বাংলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে—এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকেরই। অতীতে বিধানসভা ভোটের মুখে বিহারের জন্য বিপুল বরাদ্দের নজির টেনে শাসকদলের কটাক্ষ, “ওরা জানে বাংলার ভোটে জিততে পারবে না। তাই এবারও বাজেটে বাংলাকে বঞ্চিত করা হল।”
ভোটের বছরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, রবিবারের এই বক্তব্যেই তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।