অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই করিডর উৎপাদন, লজিস্টিক্স ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্প পরিকাঠামো এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে রেখে এই অঞ্চলকে শিল্প মানচিত্রে আরও শক্তপোক্ত জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।

নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কয়েক সপ্তাহ পরেই বাংলার বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) দিন ঘোষণা হয়ে যাবে। তার আগে রবিবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) রাজ্যের জন্য বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)।
পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাজেটের মূল অগ্রাধিকারে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ২০২৬ সালের সাধারণ বাজেট (Budget News) পেশ করতে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, পূর্বাঞ্চলের শিল্প, পরিবহণ ও পর্যটন পরিকাঠামোকে নতুন গতি দিতে একাধিক বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে দুর্গাপুরকে (Durgapur) কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে একটি নতুন শিল্প করিডর, যা ‘ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডর’-এর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই করিডর উৎপাদন, লজিস্টিক্স ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্প পরিকাঠামো এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে রেখে এই অঞ্চলকে শিল্প মানচিত্রে আরও শক্তপোক্ত জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র (Tourist Spot) গড়ে তোলার ঘোষণাও করা হয়েছে। পর্যটনকে আরও পরিবেশবান্ধব করতে প্রায় ৪ হাজার ইলেকট্রিক বাস চালু করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সামনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) থাকায় রাজ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণায় বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্র। গত কয়েক বছরে যে সব রাজ্যে নির্বাচন এসেছে, সেখানে একের পর এক পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা ও উদ্বোধনের প্রবণতা দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেন পরিষেবা এবং প্রকল্প অনুমোদনের খবর নিয়মিতই সামনে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও দুর্গাপুর ও রাজ্যের অন্যান্য অংশের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা গেল।
পরিবহণ ক্ষেত্রেও পূর্ব ভারতের জন্য বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। দেশে মোট সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি-বারাণসী হাই-স্পিড রেল করিডর। এই রুট চালু হলে উত্তর ও পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগে নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে দাবি সরকারের। শিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে এই সংযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি ফ্রেট করিডর তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে, যা পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের শিল্পাঞ্চলকে যুক্ত করবে।
অর্থমন্ত্রী এই হাই-স্পিড রেল করিডরগুলিকে ‘গ্রোথ কানেক্টর’ বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সেতু হিসেবে উল্লেখ করেন। বাকি করিডরগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বই–পুনে, পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি–বারাণসী। সরকারের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিল্প করিডর ও হাই-স্পিড রেল প্রকল্প মিলিয়ে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক গতিপথে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে। দুর্গাপুর থেকে শিলিগুড়ি - এই উন্নয়ন রূপরেখা আগামী দিনে কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষ।