Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

বেঙ্গালুরুই প্রথম নয়, এর আগেও নিরাপত্তার গাফিলতিতে সেলিব্রেশন শোকে পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে

পিএসজি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ খেতাব জয়ের পর সেলিব্রেশন চলাকালীন দুই সমর্থক মারা যান, এবং একজন পুলিশ অফিসার গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চলে যান। 

বেঙ্গালুরুই প্রথম নয়, এর আগেও নিরাপত্তার গাফিলতিতে সেলিব্রেশন শোকে পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে

সেলিব্রশেন শোকে পরিণত

শেষ আপডেট: 5 June 2025 15:00

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮ মরশুম অপেক্ষার পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু অবশেষে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন (IPL 2025 Champion RCB) হয়েছে। তাই গতকাল বাঁধ ভাঙা উল্লাসে মেতেছিলেন আরসিবির ভক্তরা। গোটা বেঙ্গালুরু শহর জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সেলিব্রেশন মুহূর্তের মধ্যে বদলে গিয়ে শোকের আবহে পরিণত হয়।

বুধবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের (Chinnaswami Stadium) বাইরে প্রায় দুই লক্ষ আরসিবি সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো পুলিশি ব্যবস্থা সেখানে ছিল না। দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা। পদদলিত (Stampede) হয়ে মারা যান ১১ জন। পাশাপাশি ৩০ জনেরও বেশি আহত হন। ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বিসিসিআইকেও বিবৃতি দিতে হয়েছে। পদদলিত হওয়ার জন্য বোর্ড প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করেছে।পাশাপাশি আরসিবি টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছেক্রিকেটপ্রেমীদের অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সাংবাদি সম্মেলন করে ১১ জনের মৃত্যু ও ৩০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার নিহতদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে।

ক্রীড়া জগতে এটিই প্রথমবার নয় যে, কোনও দলের উদযাপন শোকে পরিণত (Celebration turns to mourning) হয়েছে। সম্প্রতিপিএসজির প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের উদযাপনের সময় প্যারিসে একই ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও সেলিব্রেশন পর্বে মারা যান বেশ কিছু সমর্থক। এখানে তুলে ধরা হল এমনই কিছু ঘটনা।

পিএসজির জয় উদযাপন (৩১ মে২০২৫)

পিএসজি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ খেতাব জয়ের পর সেলিব্রেশন চলাকালীন দুই সমর্থক মারা যানএবং একজন পুলিশ অফিসার গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চলে যান। ৩১ মে গভীর রাতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে পিএসজি ইতালির ক্লাব ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ক্লাবের এই জয়ের পর প্যারিসে মানুষ উদযাপন করতে রাস্তায় নেমে আসে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারেসমর্থকরা পুলিশের উপরও আক্রমণ চালিয়েছিল। গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়। জয়ের পর পিএসজির স্ট্রিট পার্টির সময় ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় ৩০০ জনেরও বেশি সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়।

লিভারপুলের জয় উদযাপন (২৬ মে২০২৫)

গত মরশুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেতাব জেতে লিভারপুল প্রিয় ক্লাবের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে অল রেডসের সমর্থকরা একটি কুচকাওয়াজ বের করে। কিন্তু হঠাৎ করেই সমর্থকদের প্যারেডে ঢুকে পড়ে একটি গাড়ি। এই ঘটনায় ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। দুজন গুরুতর আহত হন। 

ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণ হারান ১২৫ জন (১ অক্টোবর২০২২)

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার মালাং রিজেন্সির কাঞ্জুরুহান স্টেডিয়ামে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় আরেমা এফসি এবং পার্সেবায়া সুরাবায়ার মধ্যে ম্যাচ চলছিল। আরেমা এফসি ম্যাচটি হেরে যায়। প্রিয় দলকে হারতে দেখে বিপুল সংখ্যক সমর্থক মাঠের দিকে দৌড়াতে শুরু করে। এই সময় কিছু দর্শক খেলোয়াড়দের উপর আক্রমণ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে জনগণকে নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় পদদলিত হয়ে ১২৫ জন প্রাণ হারান। ঘটনার সময় স্টেডিয়ামে প্রায় ৪২ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

১৯৬৪ সালে পেরুতে প্রাণ হারান ৩০০ জন

১৯৬৪ সালের ২৪ মে। পেরুর রাজধানী লিমায় পেরু এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে অলিম্পিক বাছাইপর্বের ম্যাচ চলছিল। ম্যাচ চলাকালীনরেফারির একটি সিদ্ধান্তের পর কমপক্ষে দুইজন সমর্থক মাঠের মাঝখানে ছুটে যান। মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করা সমর্থকদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ মাঠে উপস্থিত অন্যান্য সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে, যার জেরে তৈরি হয় হিংসার পরিবেশ। ঘটনার সময়৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন ৫০০ জনেরও বেশি দর্শক।   

মস্কোতে একটি ম্যাচ চলাকালীন ৬৬ জন নিহত

এই ঘটনাটি ঘটে ১৯৮২ সালের ২০ অক্টোবর। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব হারলেম এবং মস্কোর স্পার্টাকের মধ্যে একটি ম্যাচ চলছিল। এই ম্যাচ চলাকালীন প্রায় ১৫ হাজার দর্শক ম্যাচটি দেখছিলেন। ম্যাচ চলাকালীন পদদলিত হয়ে কী ঘটেছিল তা বহু বছর ধরে জানা যায়নি। ঘটনার প্রায় সাত বছর পর১৯৮৯ সালেসোভিয়েত মিডিয়া রিপোর্টে প্রকাশিত হয়, ই ঘটনায় ৬০ জন মারা গিয়েছিলেন। একই সময়ে কিছু রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা ৩৫০ জন পর্যন্ত পৌঁছেছিল। প্রাথমিকভাবেসোভিয়েত মিডিয়া এই ঘটনার জন্য ডাচ দল হারলেমকে দায়ী করেছিল। তবেপরে জানা যায় যে পুলিশ স্টেডিয়ামের এক কোণে দর্শকদের জড়ো করেছিল। এক জায়গায় ভিড় বৃদ্ধির কারণে পদদলিত হওয়ার ঘটনাটি শুরু হয়েছিল। এটি রাশিয়ার ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।

১৯৮৯ সালে হিলসবোরো স্টেডিয়ামে দুর্ঘটনা

দিনটি ছিল ১৫ এপ্রিল ১৯৮৯। এফএ কাপ সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল এবং নটিংহ্যাম ফরেস্ট। ম্যাচটি শেফিল্ডের হিলসবোরো স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছিল। ম্যাচ চলাকালীন ঘটে যাওয়া ঘটনায় ৯৭ জন দর্শক মারা যান। প্রাথমিকভাবে লিভারপুল সমর্থকদের এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছিল। তবে ২০১৬ সালে উঠে আসা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, পুলিশের ভুলের কারণেই হিলসবোরো স্টেডিয়ামে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। 


```