টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ICC-র আল্টিমেটাম উপেক্ষা করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট ভবিষ্যতে ‘সমস্যার কারণ’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন প্রাক্তন সেক্রেটারি সৈয়দ আশরাফুল হক।
.jpeg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 24 January 2026 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক মাস ধরে চলা টালবাহানা, দফায় দফায় বৈঠক এবং শেষ পর্যন্ত ICC-র কড়া আল্টিমেটামের পরও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও নড়ল না বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না, এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। এর ফলে বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে পারে স্কটল্যান্ড। পাশাপাশি ICC-র তরফে কড়া শাস্তি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী থাকলেও বোর্ড নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থেকেছে। এই পরিস্থিতিতে BCB-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন বোর্ডের প্রাক্তন সেক্রেটারি সৈয়দ আশরাফুল হক। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের জেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশটিকে ‘সমস্যার কারণ’ হিসেবেই দেখা হতে পারে।
নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি ভারতে খেলতে অস্বীকার করে। তারা ICC-র কাছে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন জানালেও, সব দিক খতিয়ে দেখে সেই দাবি অযৌক্তিক বলে খারিজ করে দেয় আইসিসি। গ্রুপ পরিবর্তনের আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। এত কিছুর পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে BCB।
এই সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল হক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রিকেটারদের মতামত না নিয়েই কেন সরকার ও বোর্ড এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল।
আশরাফুলের কথায়, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড এমন একটি সরকারের সিদ্ধান্তের কাছে পুরোপুরি নতিস্বীকার করেছে, যে সরকার হয়তো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষমতায় থাকবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে বাংলাদেশকে একঘরে করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশকে সমস্যার উৎস হিসেবেই দেখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বোর্ডের উচিত ছিল ICC-র নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রিকেটারদের সামনে তুলে ধরা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা ওদের উপর ছেড়ে দেওয়া। যদি খেলোয়াড়রাই নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি তুলত, তা হলে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত হতো। কিন্তু তা না করে সরকার ও বোর্ডই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলেই ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারাল।”