Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
স্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়

ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ছাড়তে চাইছে ভারতের ৩৫% রেস্তরাঁই, 'কমিশনে'র চাপে হাঁসফাঁস ছোট জয়েন্টগুলি

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে এই কমিশন ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে এবং বর্তমানে তা বিলের মোট অঙ্কের বড় অংশ কেটে নিচ্ছে। ফলে অর্ডারের সংখ্যা ভাল হলেও, অনেক রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে প্রতি অর্ডারে প্রকৃত লাভ খুবই কম থেকে যাচ্ছে।

ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ছাড়তে চাইছে ভারতের ৩৫% রেস্তরাঁই, 'কমিশনে'র চাপে হাঁসফাঁস ছোট জয়েন্টগুলি

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 19 December 2025 18:47

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকের এই গতির যুগে ভারতের খাবার এবং রেস্তরাঁর ব্যবসার (food and restaurant bussiness) সঙ্গে এখন ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে ফুড ডেলিভারি অ্যাপ (food delivery apps India)। গ্রাহকের কাছে পৌঁছনো, দৈনন্দিন অপারেশন সামলানো কিংবা আয় বাড়ানো - সব ক্ষেত্রেই এই প্ল্যাটফর্মগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন এগুলি রেস্তরাঁকে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া ও তুলনামূলক বড় বাজারের সুযোগ দেয়, অন্যদিকে তেমনই তৈরি করে আর্থিক ও পরিচালনাগত চাপ।

এই টানাপড়েনের বাস্তব ছবি তুলে ধরেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চ (NCAER)-এর একটি নতুন সর্বভারতীয় সমীক্ষা। প্রোসাস (Prosus)-এর স্পনসর করা এই সমীক্ষায় (restaurant survey) দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে যেসব রেস্তরাঁ ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহার করছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ সুযোগ পেলেই এই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে দিতে চায় (restaurants quitting food delivery apps)। যদিও একই সঙ্গে প্রায় দু’তৃতীয়াংশ রেস্তরাঁ জানাচ্ছে, তারা অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েই থাকতে চায়।

এই তথ্যই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ফুড ডেলিভারি অ্যাপ এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং দেশের রেস্তরাঁ শিল্পের এক বড় অংশের জন্য অবিচ্ছেদ্য ব্যবসায়িক কাঠামো হয়ে উঠেছে।

কেন অ্যাপ ছাড়তে চাইছে অনেক রেস্তরাঁ?

সমীক্ষা অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অসন্তোষের কারণ হল প্রতি অর্ডারে নেওয়া কমিশনের হার (food delivery app commission India)। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে এই কমিশন ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে এবং বর্তমানে তা বিলের মোট অঙ্কের বড় অংশ কেটে নিচ্ছে। ফলে অর্ডারের সংখ্যা ভাল হলেও, অনেক রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে প্রতি অর্ডারে প্রকৃত লাভ খুবই কম থেকে যাচ্ছে।

সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, “২০১৯ সালে যেখানে গড় ‘প্রতি অর্ডার’ কমিশন ছিল ৯.৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৬ শতাংশে। কমিশন নিয়ে দর কষাকষির ক্ষমতা এবং কমিশনের কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে রেস্তরাঁগুলির অভিজ্ঞতা মিশ্র। তবে মাঝারি ও বড় রেস্তরাঁগুলির দর কষাকষির ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে বেশি।”

এর উল্টো দিকে, ছোট রেস্তরাঁগুলির দর কষাকষির সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে, ফলে লাভের মার্জিনের উপর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে তাদেরই। কমিশনের পাশাপাশি, অনেক রেস্তরাঁ অ্যাপগুলির দুর্বল কাস্টমার সাপোর্ট এবং নিয়মিত অর্ডার পাওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত লাভ না হওয়াকেও অ্যাপ ছাড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবু কেন অ্যাপেই থেকে যাচ্ছে অধিকাংশ রেস্তরাঁ?

এই সমস্ত সমস্যা সত্ত্বেও, অধিকাংশ রেস্তরাঁ এখনও ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে চাইছে না। সমীক্ষা বলছে, এর প্রধান কারণ হল মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার প্রবণতা এবং নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস। জনপ্রিয় অ্যাপে তালিকাভুক্ত থাকলে রেস্তরাঁগুলি নিজেদের পাড়া বা এলাকার বাইরেও গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারে এবং নতুন ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারে।

এ ছাড়াও, এই প্ল্যাটফর্মগুলি রেস্তরাঁকে অফ-পিক সময়েও অর্ডার পেতে সাহায্য করে, নিজেদের ডেলিভারি ব্যবস্থা তৈরি না করেই বৃহত্তর এলাকায় পরিষেবা দিতে দেয়। কার্যত ব্যবসার সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “তিনটি ক্ষেত্রে অধিকাংশ রেস্তরাঁ জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার ফলে তারা ইতিবাচক প্রভাব পেয়েছে-

(১) ৫৯ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের পরিষেবার ভৌগোলিক এলাকা বেড়েছে
(২) ৫২.৭ শতাংশ বলেছে, মেনুতে খাবারের আইটেম বেড়েছে
(৩) ৫০.৪ শতাংশ জানিয়েছে, গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে

বিশেষ করে নতুন ও ছোট রেস্তরাঁগুলির কাছে এই সুবিধাগুলি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ, যে লাভের মার্জিন কম হলেও অ্যাপ ছাড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সমীক্ষার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

NCAER-এর রিপোর্টে ভারতের রেস্তরাঁ শিল্প সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বড় প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, যারা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে রয়েছে, তারা মোট লাভের অঙ্কে তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে থাকলেও, লাভের হার বা মার্জিন কম।

ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলি এমন এক শিল্পে ফর্মালাইজেশন বাড়াতেও সাহায্য করছে, যা ঐতিহ্যগত ভাবে অনেকটাই অসংগঠিত ছিল। ডিজিটাল পেমেন্ট, লাইসেন্সিং এবং হিসাবরক্ষণে এই প্ল্যাটফর্মগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অনেক রেস্তরাঁ অ্যাপগুলির দেওয়া অ্যাকাউন্টিং, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট এবং বিজ্ঞাপনের টুল ব্যবহার করছে, যদিও সেগুলির কার্যকারিতা সব ক্ষেত্রে সমান নয়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ডেলিভারি অ্যাপের উপর নির্ভরতা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, পরে তা স্থিতিশীল হয়েছে।

কিছু টিয়ার-৩ শহরে আবার অফলাইন ডাইনিং ফিরতে শুরু করায়, অ্যাপ-নির্ভর আয় সামান্য কমতেও দেখা যাচ্ছে।

সুবিধা বনাম চাপ - টানাপড়েনের সম্পর্ক

সব মিলিয়ে এই সমীক্ষা দেখাচ্ছে, ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ও রেস্তরাঁগুলির সম্পর্ক পুরোপুরি সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির নয়, বরং এক ধরনের সমঝোতা ও ছাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

যেখানে একাংশ রেস্তরাঁ অ্যাপ ছাড়তে চায়, সেখানে বেশিরভাগই ব্যবসার স্থিতি, গ্রাহক পৌঁছনো এবং দৃশ্যমানতার জন্য এখনও এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নির্ভরশীল।

ফুড ডেলিভারি ইকোসিস্টেম যত পরিণত হচ্ছে, ততই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে  স্কেল ও দক্ষতার সঙ্গে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ভারসাম্য। কমিশন, সহায়তা ও লাভজনকতা নিয়ে রেস্তরাঁগুলির উদ্বেগ কীভাবে প্ল্যাটফর্মগুলি সামলায়, তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতের এই সম্পর্ক কতটা টেকসই হবে।

এই তথ্যগুলি এসেছে ৬৪০টি রেস্তরাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারভিত্তিক সমীক্ষা থেকে। ভারতের ২৮টি শহর - টিয়ার ১, টিয়ার ২ এবং টিয়ার ৩ - এই তিন ধরনের শহরই এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমীক্ষাটি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে করা হয় এবং এতে ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহারকারী ও ব্যবহার না করা উভয় ধরনের রেস্তরাঁই ছিল। রিপোর্টে ‘এন্ট্রি–অভিজ্ঞতা–এক্সিট’ ফ্রেমওয়ার্কে আর্থিক ও অ-আর্থিক দুই ধরনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


```