প্রতিদিন আরও একটু বেশি করে দূষিত হচ্ছে আপনার শহরের বাতাস।

শহরের দূষিত বাতাস ধীরে ধীরে আপনার মোটাত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। যার নিয়ন্ত্রক আপনি হতে পারছেন না।
শেষ আপডেট: 27 November 2025 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুঁড়ি কমাতে খাওয়াদাওয়া ত্যাগ করেছেন! নিয়ম করে হাঁটছেন! জিমে যাচ্ছেন, তাও ওজন কমছে না, উপরন্তু বাড়ছে! না, এটা পুরোপুরি আপনার দোষ নয়। আপনার শহরের বায়ুদূষণ এর নেপথ্য কারণ। দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই দেখা দিচ্ছে এই সমস্যা। কারণ, প্রতিদিন আরও একটু বেশি করে দূষিত হচ্ছে আপনার শহরের বাতাস। আর এর মাত্রাধিক্যে দেখা দিচ্ছে ফুসফুসের ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ভ্রূণ ক্ষমতা এবং হার্টের অসুখ। কিন্তু, সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, শহরের দূষিত বাতাস ধীরে ধীরে আপনার মোটাত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। যার নিয়ন্ত্রক আপনি হতে পারছেন না।
বিখ্যাত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান নির্ভর সংস্থা ল্যানসেটের এই সমীক্ষায় কীভাবে বায়ুদূষণ ভারতবাসীর মধ্যে স্থূলকায়ত্বের অসুখ বাড়িয়ে দিচ্ছে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ল্যানসেটের পূর্বাভাস, এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের অর্ধেক মানুষ অতিরিক্ত স্থূলকায় হয়ে যাবেন। আধুনিক যুগের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কসরত এবং জীবনশৈলির পরিবর্তনকেই দোষ দিয়ে লাভ নেই। চোখের আড়ালে শরীরের আরেকটি ক্ষতি করে চলেছে বায়ুদূষণ। যাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ওজন আপনাআপনি বেড়ে যাচ্ছে।
এর প্রধান কারণ হল- বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5)। PM2.5 হল অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা যা বাতাসে আড়াই মাইক্রোমিটারের কম পরিমাণে মিশে থাকে। এটি আসে শিল্প দূষণ, গাড়ির ধোঁয়া, বনাঞ্চল বা আগুনে জ্বলা ধোঁয়া থেকে। স্বভাবতই শহুরে জীবনযাত্রা জন্ম থেকেই শিশুর মধ্যে এই পিএম ২.৫ প্রবেশ করছে। আর তাতেই Obesogenic প্রবণতা বা মোটা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে বলে সমীক্ষায় প্রকাশ।
এর ফলে দেহের বিপাক প্রক্রিয়া বদলে যাচ্ছে। হরমোন গ্রন্থিগুলোকে শিথিল অথবা অতি সক্রিয় করছে। যে কারণে ওজন বাড়ছে। গত এক দশক ধরে চলা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পিএম ২.৫ এবং পিএম১০ সহনশীলতার বাইরে শরীরে প্রবেশ করলে অতিকায়ত্ব এবং মোটা হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব সাধারণত দেখা যায় শহুরে পুরুষ, বৃদ্ধ এবং গ্রামীণ এলাকায় অতি দূষিত অঞ্চলে যেখানে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থাই থাকে না।
দেখা গিয়েছে, দিল্লি ও কেরলের কোট্টায়াম এবং কর্নাটকের মহিশুরের স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে একটি তুলনামূলক সমীক্ষায় মিলেছে দিল্লির প্রায় ৪০ শতাংশ স্কুল পড়ুয়া অতিরিক্ত ওজন বা মোটাত্বে ভুগছে। অন্য দুই শহরে সেই হার মাত্র ১৬ শতাংশ। অপরিমিত খাওয়াদাওয়া, শারীরিক কসরত না করা যেমন একটা বড় কারণ, তেমনই দূষিত বাতাস শিশুদের ভিতরের হরমোনাল পরিবর্তন, বিপাক প্রক্রিয়া এবং জিনঘটিত পরিবর্তনও করতে পারে। যাতে মোটাত্ব বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তীতে প্রাণের ঝুঁকিও ডেকে আনতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরুর বিশিষ্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডাঃ হেমা বেঙ্কটরামনের পরামর্শ, বাচ্চাদের সবুজ শাকসবজি এবং প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করাতে হবে। প্রতিদিনের রুটিনে তাদের স্কুল হোক বা বাড়িতে ৫০ শতাংশ সবজিপাতি, ২৫ শতাংশ প্রোটিন এবং ২৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেটস দিতে হবে। যেখানে বাইরে খেলা সম্ভব নয়, সেখানে ঘরেই অন্তত ৪৫ মিনিট জোরদার শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। তবে রান্নাঘর থেকে মোটাত্ব কমানোর দৌড় শুরু করলেও আসলে দেশের বাতাস পরিচ্ছন্ন করে তোলার লড়াইটাই প্রকৃত যুদ্ধ।