বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অবাধ ওড়াউড়ি থাকলেও এই প্রথম তারা বাসা বেঁধেছে অরুণাচলের শান্তির আঁচলে।

প্রজাপতির নতুন প্রজাতি
শেষ আপডেট: 26 October 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবুজ পাহাড় আর নৈসর্গিক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোলে অরুণাচল প্রদেশ স্বমহিমায় বিরাজ করছে। শুধু মনভোলানো প্রাকৃতিক দৃশ্যই নয়, ইকো-কালচারাল গন্তব্য হিসেবেও অরুণাচলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সবুজ পাহাড়, নদীর ধারা, আর স্থানীয় উপজাতি সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধন এই রাজ্যকে করে তুলেছে প্রকৃতির কোলে এক অপার আকর্ষণ।
এইবার সেই তালিকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আরও এক নতুন সংযোজন। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অবাধ ওড়াউড়ি থাকলেও এই প্রথম তারা বাসা বেঁধেছে অরুণাচলের শান্তির আঁচলে।
অরুণাচল প্রদেশে বনের মাঝে ছোট এক গ্রাম, কিছু মানুষের সংরক্ষিত। সিয়াং উপত্যকা থেকে ১,৩০০ মিটার উচ্চতায়, সেখানে ছয়টি নতুন প্রজাতির প্রজাপতি আবিষ্কার করলেন একদল পরিবেশ সংরক্ষক।
প্রজাপতিদের স্বাভাবিক বাসস্থান কিন্তু নদী বা নদী উপত্যকা নয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্র নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূ-জৈবিক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন প্রজাতিগুলি হল - Litin Onyx (Horaga takanamii), Narrow-banded Royal (Dacalana vui), Tibetan Duke (Euthalia zhaxidunzhui), Tibetan Sergeant (Athyma yui), Tibetan Junglequeen (Stichophthalma neumogeni renqingduojiei) এবং Mountain Columbine (Stiboges elodinia)।
এই প্রজাতিগুলি আগে লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মায়ানমার এবং দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বতে দেখা যেত। তবে ভারতের জলহাওয়ায় এই প্রথমবার তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ল পরিবেশবিদদের।
Entomon জার্নালের সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলছে, "অরুণাচল প্রদেশে এই প্রজাতিগুলির উপস্থিতি বলছে তাদের পরিচিত বিস্তারের ক্ষেত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়ারলং সাংপো অথবা ব্রহ্মপুত্র নদের ভৌগোলিক অবস্থান এখানে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে তিব্বতের মেটোক অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সিয়াং উপত্যকার জৈব-ভৌগোলিক মিল এই প্রমাণকে শক্তিশালী করেছে।''
গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, "প্রাণীবৈচিত্র্য এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্রহ্মপুত্র নদের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-জৈবিক ভূমিকা রয়েছে। সম্ভবত দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত এবং পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে মিলই এই অঞ্চলে বিশেষ প্রজাপতির খোঁজ মেলার কারণ।"
২০২৪ সালের জুন-জুলাই নাগাদ সিমুং কমিউনিটি ফরেস্টে প্রজাপতিগুলির খোঁজ মেলে। ছবি তোলা হয়, মেটে শনাক্তকরণের কাজ। তারপর শুরু হয় নথিভুক্তকরণের কাজ।
এই বিশেষ কাজটির উদ্যোক্তা আশোকা ট্রাস্ট ফর রিসার্চ ইন ইকোলজি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট (ATREE)। এটি বেঙ্গালুরুর এক জীববৈচিত্র্য গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা। প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে ছিল সিয়াং জেলার সিমং গ্রামের লিটিন কমিউনিটি কনজারভেশন সোসাইটি (Litin Community Conservation Society)।
গবেষণা পত্রটির লেখক মনসুন জ্যোতি গগোই, রাজকমল গোস্বামী, সিনা নারায়নন এবং আগুর লিটিন। ফিল্ডওয়ার্কটি ATREE-এর সিয়াং ভ্যালি বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে সম্পন্ন হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংরক্ষণকর্মী আগুর লিটিন, যিনি গবেষণাপত্রের একজন সহলেখকও।
স্থানীয় আদি এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় ঐতিহ্যবাহী ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সিয়াং উপত্যকার প্রজাপতি প্রজাতি সম্পর্কে এখনও খুব কম গবেষণাই হয়েছে।
গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, "এক মাসের মতো অল্প সময়ের সমীক্ষায় ছ'টি নতুন প্রজাতির নথিভুক্তকরণ হয়েছে। ভারতের পূর্ব হিমালয়ের লেপিডোপটারান (প্রজাপতি) সমীক্ষা এবং সংরক্ষণে যে উদাসীনতা কাজ করছে, এটাই তার প্রমাণ।"