যদিও রামধনু সরাসরি বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে না, তবু এটি মানুষের মনে আনন্দ ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের অনুভূতি জাগায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 August 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টির ঠিক পরে একটা ঝলমলে রোদ্দুর ওঠা মানে ছোটবেলায় একটা প্রজন্ম হাঁ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত, এই বুঝি এবারে দূরে একটা আলোর সাঁকো ভেসে উঠবে, চোখে পড়বে রামধনু। কিন্তু এখন তা প্রায় এক বিরল দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এখন যদিও বা মাঝে মাঝে চোখে ধরা পড়ে রামধনু, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তা বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে। কারণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আবহাওয়ার পরিবর্তন রামধনুর উপস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাতের ধরন ও মেঘাচ্ছন্ন আকাশের পরিবর্তন রামধনুর আবির্ভাবের সুযোগকে বাড়াতে বা কমাতে পারে।
কেন দেখা যায় রামধনু?
সূর্যের আলো যখন বৃষ্টির ফোঁটার ভেতর দিয়ে প্রতিফলিত হয়, তখনই রামধনু সৃষ্টি হয়। ফলে বৃষ্টির ধরণ বদলালে সাত রঙের সেই সংখ্যাও পাল্টে যেতে বাধ্য।
এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত রামধনুর ছবি দিয়ে একটি বৈশ্বিক ডেটাবেস তৈরি করেন। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–ভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে তাঁরা আবহাওয়া ও জলবায়ু তথ্যের ভিত্তিতে রামধনুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন।
ফলাফল বলছে, বর্তমানে পৃথিবীর প্রত্যেকটি স্থলভাগে গড়ে বছরে প্রায় ১১৭ দিন রংধনু দেখা যায়। কিন্তু ২১০০ সালের মধ্যে এই সংখ্যায় গড়ে ৪-৫ শতাংশ পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব অঞ্চলে তা সমানভাবে হবে না।
বিশ্বের প্রায় ২১ থেকে ৩৪ শতাংশ অঞ্চলে রংধনুর দেখা কমে যেতে পারে। বিপরীতে ৬৬ থেকে ৭৯ শতাংশ এলাকায় দেখা বাড়তে পারে। বিশেষত শীতল ও পার্বত্য অঞ্চল যেমন আর্কটিক ও হিমালয়ে রামধনুর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সেখানে মানুষের বসবাস তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ভারতসহ জনবহুল কিছু এলাকায় রামধনুর দেখা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, যদিও রামধনু সরাসরি বাস্তুতন্ত্র বা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে না, তবু এটি মানুষের মনে আনন্দ ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের অনুভূতি জাগায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই সহজ অথচ গভীর অভিজ্ঞতাটিই হারানোর মুখে পড়তে পারে।