বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫% দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভোগেন, তাই এটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ছবি - গুগল
শেষ আপডেট: 18 August 2025 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘোর কলি! এই পৃথিবীতে সবই সম্ভব বোধহয়। ‘টেস্ট টিউব বেবি’ (Test tube baby) থেকে শুরু করে ‘ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (IVF) - বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধান করেছে মানুষের। এবার সেই দিনও খুব বেশি দেরি নেই যেদিন বিশ্বে আসতে চলেছে প্রথম এমন এক ‘গর্ভধারণ রোবট’, যা জন্ম দিতে পারবে জীবিত মানবশিশু।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি গর্ভধারণ থেকে শুরু করে সন্তানপ্রসব পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি অনুকরণ করবে। চিনা বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার কাজ অনেকটাই সেরে এনেছেন বলে খবর।
জানা গিয়েছে, গর্ভস্থ ভ্রূণকে রাখা হবে এক কৃত্রিম ইউটেরাসে এবং তার বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছবে এক টিউবের মাধ্যমে। তবে এই প্রযুক্তিতে কীভাবে ডিম্বাণু (Egg) ও শুক্রাণুর (Sperm) নিষেক ঘটবে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনেননি।
এই বিশেষ রোবট তৈরি করছে গুয়াংঝু-ভিত্তিক কাইওয়া টেকনোলজি (Kaiwa Technology), যার নেতৃত্বে রয়েছেন ড. ঝ্যাং কিফেং, সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটির গবেষক।
যদি গবেষণা সফল হয়, তাহলে এই প্রযুক্তি বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন এমন দম্পতি কিংবা যারা স্বাভাবিকভাবে নিজের শরীরে গর্ভধারণ করতে চান না - তাঁদের জন্য নতুন আশার দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
ড. ঝ্যাং দাবি করেছেন, প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যেই ‘পরিণত পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছে। তিনি বলেছেন, ‘এখন এটি রোবটের পেটে প্রতিস্থাপন করতে হবে, যাতে বাস্তবে মানুষ এবং রোবটের সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে ভ্রূণ ভেতরে বৃদ্ধি পাবে।’
২০২৬ সালের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ইয়ুয়ান (প্রায় ১৪,০০০ মার্কিন ডলার)।
তবে এই প্রযুক্তি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা নৈতিক বিতর্কও। প্রশ্ন উঠছে, ভ্রূণ ও মায়ের মধ্যে চিরাচরিত স্নেহের বন্ধনের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর উৎস কোথা থেকে আসবে? শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যেই বা এর প্রভাব কী হবে?
তবুও, এটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫% দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি নতুন পথ খুলতে পারে।
এই ধারণাটি নতুন নয়। এর আগেও ২০১৭ সালে বিজ্ঞানীরা একটি পরীক্ষায় প্রিম্যাচিওর ভেড়াকে কৃত্রিম অ্যামনিওটিক তরল ভরা ‘বায়োব্যাগে’ (biobag) বড় করেছিলেন।
বর্তমানে ড. ঝ্যাং-এর দল গুয়াংডং প্রদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নীতি ও আইনগত কাঠামো নিয়ে আলোচনায় রয়েছে, যাতে প্রযুক্তি শুরু হওয়ার আগে নৈতিক ও আইনি প্রশ্নগুলোর সমাধান করা যায়।