ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া (Drug Resistant bacteria) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এক সমস্যার রূপ নিয়েছে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 August 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া (Drug Resistant bacteria) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এক সমস্যার রূপ নিয়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে তা চিকিৎসক থেকে শুরু করে গবেষক মহলে গত কিছু বছর ধরেই রীতিমতো চিন্তার কারণ।
এবার সেই ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়াকে বাগে আনতে যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন মার্কিন গবেষকরা। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর গবেষকরা জানাচ্ছেন, জেনারেটিভ এআই (Generative AI) ব্যবহার করে তাঁরা এমন কিছু নতুন যৌগ (compounds) তৈরি করেছেন, যা মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টিকারী Neisseria gonorrhoeae (যৌনরোগ গনোরিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া) ও MRSA (multi-drug-resistant Staphylococcus aureus)-এর মতো ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুকেও ধ্বংস করতে সক্ষম।
ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্তের কারণ মূলত অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার। তা ছাড়াও কখনও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া বা কোর্স পুরো শেষ না করা এই সমস্যাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে কঠিন রোগ নিয়ন্ত্রণের সময় চেনা জানা দরকারি ওষুধের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে ফেলে রোগ জীবাণু।
তারপর থেকেই নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করার চাপ তৈরি হয়েছে গবেষক মহলে ওপর। সেই সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে এআই।
গবেষক দলটি এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি সম্ভাব্য যৌগ ডিজাইন করেন এবং সেগুলিকে কম্পিউটারভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা অনুযায়ী বাছাই করেন। নির্বাচিত যৌগগুলির গঠন বর্তমানে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের থেকে আলাদা এবং একেবারেই নতুন প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে পারে।
এমআইটির মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক জেমস কলিন্স বলেন, “আমাদের এই কাজ দেখিয়ে দিচ্ছে, ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এআই কতটা শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে আমরা এমন বিশাল ‘কেমিক্যাল স্পেস’-এ প্রবেশ করতে পারছি, যা আগে কোনোদিন সম্ভব ছিল না।”
গবেষণার মূল সাফল্য:
• NG1: নতুনভাবে তৈরি হওয়া যৌগ, যা গনোরিয়া সৃষ্টিকারী ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
• DN1: আরেকটি যৌগ, যা ইঁদুর মডেলের ওপর মারাত্মক MRSA ত্বক-সংক্রমণ দূর করতে সফল হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, NG1 ব্যাকটেরিয়ার সেল মেমব্রেন তৈরির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে জীবাণুকে মেরে ফেলে। DN1-ও সেল মেমব্রেনকে আক্রমণ করে, তবে তা আরও বিস্তৃত প্রক্রিয়ায় কাজ করে।
তাঁরা আরও জানাচ্ছেন, এই যৌগগুলি আমাদের চেনাজানা কোনও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো নয়। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধের সংকট মোকাবিলায় একেবারেই নতুন দিক খুলে দিচ্ছে এই গবেষণা।
বর্তমানে এমআইটির সহযোগী সংস্থা Phare Bio এই যৌগগুলি আরও পরিশোধিত করার কাজ করছে, যাতে সেগুলি প্রি-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত হয়।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৫০ লক্ষ মৃত্যু হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে। সেই প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।