সাধারণত মাথাব্যথা, জ্বর বা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামলকে নিরাপদ মনে করা হয়।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 17 August 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) ওষুধের প্রভাব নিয়ে নতুন করে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। গর্ভাবস্থায় এই ‘সাধারণ’ ওষুধটির প্রভাবে সন্তানের স্নায়বিক বিকাশে গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এক নতুন গবেষণা।
এতে বলা হয়েছে, গর্ভস্থ অবস্থায় মায়ের প্যারাসিটামল সেবন শিশুর মধ্যে অটিজম এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD)-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সাধারণত মাথাব্যথা, জ্বর বা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামলকে নিরাপদ মনে করা হয়। কিন্তু আমেরিকার আইকাহন স্কুল অব মেডিসিন অ্যাট মাউন্ট সিনাই-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা ১ লক্ষেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর উপর হওয়া ৪৬টি আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, উচ্চমানের গবেষণাগুলিতে গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন ও শিশুদের নিউরোডেভেলপমেন্টাল ঝুঁকির মধ্যে সুস্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে।
এই গবেষণার অন্যতম লেখক অধ্যাপক ডিডিয়ার প্রাডা জানিয়েছেন, “এত ব্যাপক হারে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয় যে সামান্য ঝুঁকিও জনস্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।”
কেন ঝুঁকি বাড়ায় প্যারাসিটামল?
গবেষকরা জানিয়েছেন, প্যারাসিটামল প্লাসেন্টা পেরিয়ে ভ্রূণের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং এপিজেনেটিক পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা ভ্রূণের মস্তিষ্কের (ব্রেন) বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে অটিজম ও ADHD-র সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাই এই গবেষণা নীতি-নির্ধারণী স্তরে নতুন ভাবনার দিক উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে গবেষকরা এও জানিয়েছেন, তাঁদের কাজ সরাসরি প্রমাণ করে না যে প্যারাসিটামলই এই সমস্যার কারণ। তবে প্রমাণগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সতর্কবার্তা কী বলছে?
গবেষক দলের পরামর্শ, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সীমিত সময়ের জন্যই গর্ভবতী নারীদের প্যারাসিটামল ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি, বিষয়টি আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য নতুন গবেষণার প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।