গবেষণা বলছে, মাত্র ২৫টি সমাজে পুরুষরা একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছে, যেখানে তারা নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে ৯০ শতাংশ সময় জিতে গেছে।

শেষ আপডেট: 2 August 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাণীজগতে পুরুষই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে—এই প্রাচীন ধারণায় বড়সড় ধাক্কা দিল একটি নতুন গবেষণা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় জানা গেছে, বানরজাতীয় বহু প্রজাতির মধ্যেই মহিলারা অনেক বেশি ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী। এমনকি পুরুষদের সঙ্গে লড়াইয়ে তারা জয়ীও হচ্ছে অধিকাংশ সময়ে।
আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়,ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় (Montpellier),জার্মানির প্রাইমেট সেন্টার ও ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে ১২১টি প্রজাতির বানর সমাজে পুরুষ-নারী ক্ষমতার সম্পর্ক ও সামাজিক রীতি পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা।
নারী নেতৃত্ব বেশি, পুরুষ নেতৃত্ব বিরল
গবেষণা বলছে, মাত্র ২৫টি সমাজে পুরুষরা একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছে, যেখানে তারা নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে ৯০ শতাংশ সময় জিতে গেছে। অন্যদিকে মাত্র ১৬টি সমাজে নারীদের আধিপত্য দেখা গেছে। কিন্তু ৭০ শতাংশ বানর সমাজে কোনও স্পষ্ট লিঙ্গ নেতৃত্ব নেই। সেখানে কখনও পুরুষ, কখনও নারী—সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তিত হচ্ছে।
নেতৃত্ব মানেই শক্তি নয়, কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণার সহ-লেখক এলিস হুশার্ড জানান, নারী নেতৃত্ব অনেক সময় শুধুই শক্তি দিয়ে তৈরি হয় না, বরং প্রজনন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সেখানে বড় ভূমিকা রাখে। “একজন নারী যদি না চায়, কোনও পুরুষ তার সঙ্গে মিলিত হতে পারবে না। এই ‘না’ বলার অধিকারটাই নারীদের হাতে ক্ষমতার চাবিকাঠি দেয়,” বলেন তিনি। অন্যদিকে, যেসব প্রজাতিতে পুরুষেরা আকারে বড় বা শক্তিশালী, যেমন গরিলা বা অন্য মাটিতে বসবাসকারী প্রজাতিগুলি, সেখানে পুরুষ আধিপত্য কিছুটা বেশি দেখা যায়।
মানুষের ক্ষেত্রেও কি একই কথা প্রযোজ্য?
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে—মানুষের সামাজিক কাঠামো ও ক্ষমতার সম্পর্কও প্রাকৃতিকভাবে স্থির নয়। তা নির্ভর করে সমাজ, পরিবেশ, সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির উপর। এই গবেষণা আমাদের এই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় যে—পুরুষই ‘ডিফল্ট’ নেতা। বরং, সমাজ এবং সম্পর্কের জটিল কাঠামোই ঠিক করে কে ক্ষমতায় থাকবে। গবেষকেরা বলছেন, “আমাদের দুই নিকট আত্মীয়—শিম্পাঞ্জি ও বোনোবো। একদিকে শিম্পাঞ্জি পুরুষ-নেতৃত্বাধীন, অন্যদিকে বোনোবো সমাজে নারীদের দাপট। সুতরাং, একটাই নিয়ম সব সমাজে খাটবে এমন নয়।”
সমাজ ও লিঙ্গের ধারণায় নতুন প্রশ্ন
এই গবেষণা প্রমাণ করে, নেতৃত্ব, আধিপত্য ও সামাজিক সম্পর্কের কোনও একমাত্রিক ব্যাখ্যা নেই। যা লিঙ্গ বৈষম্য সংক্রান্ত সামাজিক ব্যাখ্যাগুলিকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।